
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির এই দুই নীতিনির্ধারক। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিটের আলোচনায় ১৫ মিনিট একান্তে কথা বলেন তারা।
এর আগে দুপুরে তারা হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত দুই শীর্ষ নেতা শাহ আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর এবং ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে আমরা হেফাজত আমির ও সকলের মুরব্বি আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। আমরা তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছি এবং দোয়া নিয়েছি।”
‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী’ আন্দোলনে আলেম সমাজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আলেম সমাজের ওপর যে হামলা-মামলা হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। শাপলা চত্বরে পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, আমরা তাদের সকলের সাথে যোগাযোগ রাখছি।”
হেফাজতের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “হেফাজত ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তাদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নাই। তবে হেফাজত ইসলামের অধীনে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন আছে, তাদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক আলাপ হবে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই সনদে তারা যা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছি এবং স্বাক্ষর করতেও রাজি আছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করতে চাই।”
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ির এই দুটি মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী আসন দুটি বরাবরই হেফাজত অধ্যুষিত। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফর হতে পারে।”