বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়িতে বিএনপি নেতার শোডাউনে ‘সরকারি’ অ্যাম্বুলেন্স

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৬ অগাস্ট ২০২৫ | ২:৫১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক বিএনপি নেতার রাজনৈতিক শোডাউনে ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট বিজয় শোডাউনে’ ফটিকছড়ি পৌরসভার মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়ে অংশ নেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগী ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সটি সাইরেন বাজিয়ে শোডাউনের সাথে পুরো সদর এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সরকারি সম্পদের এমন ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা আলী আছার বলেন, “এই অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের সেবার জন্য দেওয়া হয়েছে। এখন রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের প্রচারণায় এটি ব্যবহার করছেন, যা জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।”

পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীদের দান করা এই অ্যাম্বুলেন্সটি শুধুমাত্র রোগী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট। তিনি বলেন, “এটি অন্য কোনো কাজে ভাড়া দেওয়া বা ব্যবহারের সুযোগ নেই। রেজুলেশনেও স্পষ্ট উল্লেখ আছে, এটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।”

তবে, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া নিয়ে শোডাউনে ব্যবহার করেছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের ভাড়া দিয়েছেন।”

এই ঘটনায় বিএনপির ভেতরেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা অন্যায় ও অনৈতিক। যারা এটা করেছে তারা দলের ক্ষতি করেছে।”

দলের আরেকটি অংশ মনে করছে, যখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরওয়ার আলমগীর বলেন, “বিজয় শোডাউনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দলের আহত নেতাকর্মীদের পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এটি সরকারি না বেসরকারি, তা আমার জানা ছিল না।”

ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, আমরা তদন্ত করে দেখব এবং সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”