শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

জেলেদের অপহরণ করছে আরাকান আর্মি, টেকনাফের জেলেপল্লীতে আতঙ্ক

২২ দিনে ৫৮ জেলে অপহরণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | ১০:১১ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি গত ২২ দিনে অন্তত ৫৮ জন জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলে সমিতিগুলো জানিয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনটি নৌযানসহ আরও ১৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। ধারাবাহিক এই ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক জেলে ভয়ে সাগরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

গত ১২ আগস্ট আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হন শাহপরীর দ্বীপের জেলে মো. ইলিয়াছ এবং তার দুই ছেলে আক্কল আলী ও মো. নুর হোসেন। তাদের অপেক্ষায় দিন গুনছেন ইলিয়াসের স্ত্রী মাবিয়া খাতুন। তিনি বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা নৌকা ও জাল দিয়ে তার স্বামী-সন্তানরা মাছ ধরে সংসার চালাতেন। এখন তারা নিখোঁজ থাকায় ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের খরচ চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

একইভাবে গত ৫ আগস্ট অপহৃত হন জেলে উসমান গনি। তার বাবা মো. তৈয়ব বলেন, “ছেলেকে নিয়ে গেছে প্রায় ২২ দিন, তার কোনো খোঁজখবরই পাচ্ছি না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”

টেকনাফ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমদ জানান, সাগর ও নদীর মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা এখন আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন। আরাকান আর্মি অস্ত্রের মুখে জেলেদের অপহরণের পাশাপাশি নৌকার মাছ, জ্বালানি ও অন্যান্য মালামালও লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টে রাখাইনের মংডু শহর আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই এই উপদ্রব বেড়েছে। রাখাইনে খাদ্যসংকটের কারণে তারা বাংলাদেশি জেলেদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “গত তিন সপ্তাহে প্রায় ৫৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ট্রলার মালিক সমিতি জানিয়েছে। আমরা নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করেছি।”

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, জেলেদের অভিযোগের বিষয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, একের পর এক অপহরণের ঘটনায় শাহপরীর দ্বীপের জেলে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলে খলিলুর রহমান বলেন, “সাগরে মাছ ধরেই আমরা বড় হয়েছি, আর কোনো কাজ পারি না। এখন মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছি, এতে পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।”