
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ উধাও হয়ে গেল এক নিমিষে। দেশের মাটিতে পা রাখার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরা হলো না চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রবাসী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সিকদারের (৪৫)। তার নিথর দেহ এখন হাসপাতালের মর্গে, আর পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের সদস্যরা যখন তাকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আসে দুঃসংবাদ।
পরিবার জানায়, সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে ওমান থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হন নাজিম উদ্দিন। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিমানবন্দরেই তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রবাসী নাজিম উদ্দিন বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা গ্রামের মৃত হাছান সিকদারের ছেলে।
ভাইকে বরণ করতে না পেরে তার লাশ গ্রহণ করার মর্মান্তিক বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না ছোট ভাই হেফাজ উদ্দিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “আমার বড় ভাই নিয়মিতই দেশে আসা–যাওয়া করতেন। মঙ্গলবার সকালে দেশে আসার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোন ফ্লাইটে আসছেন তা নিশ্চিত করে বলেননি। এখন আমি আগারগাঁওয়ে এসেছি ভাইয়ের লাশটা নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভাবতেও পারিনি এমন কিছু হবে।”
নাজিম উদ্দিনের এই অকাল মৃত্যুতে শুধু তার পরিবারই নয়, শোকাহত পুরো এলাকা। প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি প্রবাসে ছিলেন। কঠোর পরিশ্রমে ওমান ও দুবাইতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে। দুবাইতে তার একটি বোরকা (গার্মেন্টস) ফ্যাক্টরি ছিল, যেখানে বহু বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছিল।
তিনি ওমানেও গড়ে তুলেছিলেন একটি রেস্টুরেন্ট। তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়ায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। যার ঘরে ফেরার আনন্দে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেই ঘরে এখন কান্নার রোল।