সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

কীটনাশকের বিষ আর বালু উত্তোলনে বিপন্ন হালদা

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
সাইফুল ইসলাম | প্রকাশিতঃ ৯ অক্টোবর ২০২৫ | ৬:১১ অপরাহ্ন


দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী আবারও দুটি বড় হুমকির মুখে পড়েছে; তীরে বিষাক্ত কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার এবং নদীগর্ভ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি চাষে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীর পানিতে মিশছে, আর রাতের আঁধারে চলছে বালু লুটের মহোৎসব, যা নদীর জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, “হালদায় বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে নদীর তলদেশ নষ্ট হয়ে মাছের ডিম ছাড়ার স্থান ধ্বংস হচ্ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে হালদার প্রজনন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “হালদা পাড়ের কৃষকদের অর্গানিক চাষে উৎসাহিত করতে হবে, না হলে বিষাক্ত পদার্থ নদীতে মিশে মা মাছের মৃত্যু ঘটবে।”

নদী পাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশি ফলনের আশায় তারা কীটনাশক ব্যবহার করেন। কৃষক ইউনুস ও শরীফ জানান, সরকারি সহায়তা পেলে তারা অর্গানিক চাষে আগ্রহী হবেন।

এদিকে, কীটনাশকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নাজিরহাট হেলথ কমপ্লেক্সের সাবেক পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৌনেম বড়ুয়া বলেন, “কীটনাশক ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতি না মানলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কীটনাশক কোম্পানির কর্মকর্তা জানান, এসব রাসায়নিক মানুষের ক্যান্সার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষকদের সচেতন করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অর্গানিক চাষে অভ্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “হালদায় পরিবেশ নষ্ট করবে এমন সার ব্যবহার এবং বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আজ দুটি স্পটে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।”

তবে তিনি জানান, রাতের বেলায় চোরাকারবারিদের ধরতে স্থানীয়দের সহযোগিতার ঘাটতি রয়েছে।

মানবাধিকার নেতা অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি বলেন, “হালদা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মা মাছের ভাণ্ডার। প্রশাসনকে এর সুরক্ষায় কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।”