
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপকমিশনারের (ডিসি) হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন যমুনা টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক।
রোববার সকালে নগরীর খুলশী থানায় এই হামলার পর অভিযুক্ত ডিসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের দাবিতে থানার সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা।
হামলার শিকার যমুনা টিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় সিএমপির উত্তর বিভাগের ডিসি আমিরুল ইসলাম তাকে থানার একটি কক্ষে আটকে রেখে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তার চোখ, মুখ ও কানে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় তার ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ ঘৃণ্য, নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
বিবৃতিতে রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সবুর শুভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার না হলে সিইউজেসহ চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।
এদিকে, ঘটনার পরপরই খুলশী থানার সামনে আয়োজিত তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা অভিযুক্ত ডিসিকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার এবং চট্টগ্রাম টিভি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক হোসাইন জিয়াদ।
এ সময় সংহতি জানিয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক লতিফা আনসারি রুনা, সিইউজের টিভি ইউনিটের প্রধান তৌহিদুল আলম, চট্টগ্রাম টিভি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একে আজাদ, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুন, যমুনা টিভির ব্যুরো প্রধান জামশেদ রেহমান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ব্যুরো প্রধান আলমগীর সবুজ, স্টার টিভির ব্যুরো প্রধান এমদাদুল হক এবং জাগো নিউজের ব্যুরো প্রধান ইকবাল হোসেন।