সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন আজীবন বহিষ্কার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১১:১৩ পূর্বাহ্ন


সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

রবিবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো।”

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মামুনের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে মামুনকে বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন চাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কারণে মামুনকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি বলছে, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও মামুন ছাত্রদলের জন্য সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ৫ অগাস্টের পট পরিবর্তনের পর গঠিত ছাত্রদলের প্যানেলে অনেক ত্যাগী কর্মী জায়গা পায়নি। নিজের দায়বদ্ধতা থেকে তিনি চাকসুতে স্বতন্ত্র পদে দাঁড়ানো কয়েকজন কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তার বহিষ্কারের কারণ হতে পারে।”

এর আগে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট চবি শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসিনকে সভাপতি এবং আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ওই কমিটিতেই সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মামুন উর রশিদ মামুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. ইয়াসিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।