সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়িতে মারধরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা চায় পরিবার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ৬:৩৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি ও তার বাবাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুহাম্মদ মুখতার রহমান থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এখন নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সোমবার বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার রাতেই মুহাম্মদ মুখতার রহমান বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলার দক্ষিণ পাইন্দং গ্রামের নুর হোসেন হাবিলদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মুহাম্মদ মুখতার রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী মো. কাদের, মো. রায়হান, মো. তৈয়ব, আমির আজম ও মো. হেলালের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মৌরসী সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে রোববার রাতে তারা লোহার পাইপ, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোটা নিয়ে তাকে এবং তার পিতা মো. দিদারুল আলমকে (৫৮) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তিনি বলেন, “মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ করলে কাদেরের হাতে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বুক, পিঠ, তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এতে আমার শরীর গুরুতর জখম হয়। এসময় রায়হান ও তৈয়ব আমাদের ঘরে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে তিনটি জানালা ভাংচুর করে। এতে আমাদের বসতঘরে থাকা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।”

মুখতার রহমান আরও বলেন, “এক পর্যায়ে আমির আজম ও ঝিলু আকতার আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিলে মো. কাদের লোহার পাইপ দিয়ে আমার ঠোঁটে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে। এর আগেই তারা আমার হাতে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।”

বর্তমানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান মুহাম্মদ মুখতার রহমান। তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবারের লোকজন মারাত্মক হুমকিতে আছি। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের মারধর, খুন-জখমসহ অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করতে পারে। এ কারণেই প্রতিকার পেতে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. কাদেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ জানান, সোমবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”