
উচ্চ আদালতের রিটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটের নির্মাণকাজ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজটি পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেন। এর ফলে হালদা নদীর জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে ওই এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মুক্তির আশা তৈরি হয়েছে।
এর আগে সকালে ইউএনও’র কার্যালয়ে বিবদমান পক্ষদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রিটকারী ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক পক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহীন বাদশা, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপসহকারী প্রকৌশলী এলটন চাকমা এবং সার্ভেয়ার মোহাম্মদ জয়নাল ও সুচিত্র চাকমা।
জমির মালিকদের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ রাশেদ ও মোহাম্মদ রফিক।
এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেখল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জি, সাংবাদিক খোরশেদ আলম শিমুল, রাজনীতিবিদ জি এম সাইফুল ইসলাম ও শফিক আহমদ ভুট্টু, মেখল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রাশেদ, গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ টিপু এবং স্থানীয়দের মধ্যে মোহাম্মদ জসিম, একে খান, শহীদ বাবর ও আলমগীর সওদাগর। ঠিকাদারের পক্ষে ছিলেন হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ মনসুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হালদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চেংখালী খালের ওপর নির্মিত পুরানো স্লুইসগেটটি ধসে পড়ে। এতে উপজেলার মেখল ও গড়দুয়ারা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
ইউএনও মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, সমঝোতার মাধ্যমে একটি দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং নির্মাণকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।