
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের মহতর পাড়া স্লুইসগেটের জলকপাট (পাল্লা) খুলে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে পুরো ব্যবস্থাটি। ফলে আসন্ন রোপা আমন মৌসুমে প্রায় ৫১০ হেক্টর চাষযোগ্য জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব এবং স্থানীয় কিছু মৎস্যজীবীর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মহতর পাড়া এলাকার কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই পাল্লাবিশিষ্ট এই স্লুইসগেটটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু এটি দেখভালের জন্য কোনো অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু মৎস্যজীবী বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার জন্য ইচ্ছামতো গেটের পাল্লা ওঠানামা করান। এর ফলেই দুটি জলকপাট খুলে পানির নিচে পড়ে বিকল হয়ে গেছে।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম আহমেদ সরকার বলেন, “এই স্লুইসগেটটি এখন কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে চাতরী ইউনিয়নের ৫১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বা বর্ষার আগে এটি মেরামত করা না হলে উপজেলার বড় অংশের ধান চাষ ব্যাহত হবে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলেছি এবং স্থায়ী সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছি।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান লাগানোর সময় ঘনিয়ে আসছে। এখনই স্লুইসগেটটি সচল করা না হলে আবাদি জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাবে এবং যথাসময়ে ধান রোপণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখানে একজন অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে সেচকাজে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যেত।
এ বিষয়ে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “বিষয়টি জানিয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, “যেহেতু ওই স্লুইসগেটে নিয়োগ করা কোনো অপারেটর নেই, তাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এটি দেখভাল করেন। স্থানীয়দের অসতর্কতায় এটি বারবার নষ্ট হয়। আমরা এই পর্যন্ত পাঁচবার এটি মেরামত করেছি। যেহেতু বিষয়টি আপনারা অবগত করেছেন, তাই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”