শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকবে না: সিএমপি কমিশনার

| প্রকাশিতঃ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:০৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী বা সন্ত্রাসী গ্রুপ থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ‘চরম পন্থা’ অবলম্বন করতেও পুলিশ পিছপা হবে না।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসিব আজিজ বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকতে পারবে না। সাজ্জাদ বাহিনী, লাল্টু বাহিনী, পল্টু বাহিনী—এই সমস্ত বাহিনী নির্মূল করতে হবে। নির্মূল মানে নির্মূল। প্রয়োজনে চরম পন্থা অবলম্বন করতেও আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করব না।”

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি ‘ভীতি সঞ্চার’ করার পরিকল্পনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিতাড়িত স্বৈরাচার এবং তাদের বিদেশি প্রভুরা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনটি তাদের জন্য একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। তারা যেন এই টেস্টে ফেইল করে, সেজন্য আমাদের যা করার করতে হবে।”

পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্রের ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অস্ত্র পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে এসব উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।

মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রকাঠামো ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনাও করেন সিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকতে পারে, কিন্তু পেশাগত ক্ষেত্রে একটি ‘দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক’ থাকাই রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে হাসিব আজিজ বলেন, “রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলো যদি একটি অ্যালাইনমেন্টে চলে আসে, তবে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটে। গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সাংবাদিক—সবাই এক অ্যালাইনমেন্টে চলে এসেছিল। ফলে দেশে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে আমি সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে দাওয়াত খেলাম, কাল তিনি আমাকে দাওয়াত দিলেন—এতে সম্পর্ক হলো। এরপর আমার কোনো অপকর্ম বা ভুল তিনি বন্ধুত্বের খাতিরে রিপোর্ট করলেন না; এটি কোনো কাম্য পরিস্থিতি নয়। রাষ্ট্রের কল্যাণে ও জননিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়া উচিত।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ন্যাশনাল অ্যাসেট’ বা জাতীয় সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন হাসিব আজিজ। তিনি বলেন, “১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ড. ইউনূস একমাত্র ব্যক্তি যিনি দেশে ও বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত। তাঁকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”

পুলিশ সদস্যদের আচরণের বিষয়ে নিজের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আমার সহকর্মীদের বলি—ইউ মাস্ট বি ফার্ম ইন ইউর অ্যাটিটিউড, বাট ভেরি পোলাইট ইন ইউর বিহেভিয়ার। পুলিশিং উইথ আ স্মাইলিং ফেস। একজন সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না।”

সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সাফল্য-ব্যর্থতা বড় কথা নয়। জনগণের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা এবং অপরাধভীতি দূর করাই একজন পুলিশ অফিসারের সাফল্যের মাপকাঠি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় এই সভায় বক্তব্য রাখেন পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ ও কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমান প্রমুখ।

সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।