
চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ থেকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ফরিদুল আলম (২৮) নামের এক ব্যবসায়ী। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফরিদুল আলম পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামের মো. এয়াকুবের ছেলে। তিনি খাতুনগঞ্জ এলাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে চড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন ফরিদুল। পথে কর্ণফুলী সেতু এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে হানিফ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস (চট্ট-মেট্রো: ব ১৪-৪২৯৬) তার মোটরসাইকেলটিকে (চট্টমেট্রো: হ- ১৭-০৬৪০) ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন বলেন, “বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক ফরিদুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসটি জব্দ করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের গ্রামের বাড়ি পটিয়ার হরিণখাইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ দৃশ্য। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতের প্রতিবেশী রবিউল আলম বাদশা জানান, ফরিদুল আলম তিন ছেলের জনক ছিলেন। প্রতিদিন তিনি বাড়ি থেকেই ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। কিন্তু বেপরোয়া বাসের কারণে তার আর বাড়ি ফেরা হলো না।