ঢাকা : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানের রঙিন পানি নিক্ষেপে মিছিলটি পণ্ড হয়েছে।
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং ঢাকা বিভাগীয় সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ ৫৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পল্টন থানার ডিউটি অফিসার রেজভী আক্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, আটকদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন নারী ও ২৭ জন পুরুষ নেতাকর্মী রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়া পল্টনে জনসভার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকশ কর্মী কার্যালয়ের সামনের সড়কে কালো পতাকা নিয়ে বসে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান শুরু করেন তারা। এসময় লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ, জলকামান থেকে রঙিন পানিও ছুড়তে থাকে। কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তাও পুলিশ ভেঙে দেয়। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীরা। তাদের কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে আছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। পুলিশের বাধার মুখে নয়াপল্টন কার্যালয়ের ভেতরে এবং আশপাশের গলিতে আশ্রয় নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এদিকে লাঠিপেটায় ও জনকামানে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ধরপাকড়ের সময় ঘটনাস্থলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নীলুফার চৌধুরী মনি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানের পানি নিক্ষেপে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সেখানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারই চাইছে আমরা সংঘাত করি। সেজন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে অব্যাহতভাবে উস্কানি দিচ্ছে।