সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

আগাম তথ্য পেয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না জঙ্গি হামলা!

| প্রকাশিতঃ ১৮ জুলাই ২০১৬ | ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

mahiঢাকা: আগাম তথ্য থাকার পরও জঙ্গি হামলা ঠেকাতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার বিষয়েও তথ্য ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কিন্তু ঠেকানো যায়নি হামলা। নিত্যনতুন কৌশলে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলা হবে- ব্রড ইন্টেলিজেন্স হয়তো এমন তথ্য জানত প্রশাসন। কিন্তু আগাম তথ্য জানার পর জঙ্গি হামলা ঠেকাতে সরকারের আরও বেশি সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়ার যে প্রয়োজন ছিল, সেদিকে ঘাটতি ছিল বলে মনে করছেন তারা।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার বিষয়ে আগাম তথ্য সরকারের কাছে ছিল বলে রবিবার এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মন্ত্রী আরও বলেন, গুলশান এলাকায় কিছু একটা ঘটতে পারে, এ তথ্য ছিল তাদের কাছে। এ কারণে সব ধরনের প্রস্তুতি থাকায় দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছে। শোলাকিয়ার বিষয়ে তথ্য থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়ায় হতাহত কম হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, “হামলা হবে জানলেও গুলশানের ওই লক্ষ্যবস্তুতে (আর্টিজান) হামলা হবে এমন তথ্য সরকার জানত কি না আমার সন্দেহ আছে। নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, হামলা হবে- ব্রড ইন্টেলিজেন্স হয়তো এমন তথ্য জানত। সেটা মোকাবেলায় সরকার আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারত। এটা করতে পারলে এমন হামলার ঘটনা এড়ানো যেত।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “কিছুটা আগাম তথ্য থাকার কারণেই হয়তো হামলার পরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পেরেছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির অতীত অভিজ্ঞতা না থাকা, নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে না পারায় তারা সেখানে জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।”

আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরপর সেখানে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার ও বনানী থানার ওসি জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন ২০ জনের মতো পুলিশ সদস্য।

আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদারও মনে করেন সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং এর আলোকে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপীই নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। ব্রাসেলস ও ফ্রান্সে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেও হামলা হয়েছে। টার্গেট হামলা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেও সংঘটিত হয়। এটা জানলেও ঠেকানো কঠিন। কারণ সরকার যতই নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করুক, জঙ্গিরাও ছিদ্র খোঁজে। তারা সুযোগমতো হামলা চালায়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা এবং আরও বেশি তথ্য সংগ্রহ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, “সরকারকে আরও বেশি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে হবে। সেই আলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ যত বেশি তথ্য জানা থাকবে, ব্যবস্থা নেয়া তত সহজ হবে।”

গত ১ জুলাই গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে ও ৭ জুলাই ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের অদূরে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এসব হামলায় চার পুলিশ, ১৭ বিদেশি, চার বাংলাদেশি নিহত হয়। এ ছাড়া আর্টিজানে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং শোলাকিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এক জঙ্গি।