চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আগামী দিনের চট্টগ্রাম হবে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক হাব। চট্টগ্রামকে সে সময়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে পতেঙ্গায় আরো টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। বে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল মেশিনারি এক্সপোর (বিগটেক্স) উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিছু দিন আগেও গরিব দেশ ছিলাম। অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চেষ্টা হয়েছিল। দেশের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের মেধা, প্রজ্ঞা, ঝুঁকির ভূমিকা অপরিসীম। সরকারের ইতিবাচক সহায়তায় এটি সম্ভব হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘২০২১ সাল নাগাদ গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রাযুক্তিক উৎকর্ষ সাধন , সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহার,টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের পোষাক শিল্প খাত ব্যবস্থাপনা। গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ইতোমধ্যেই বিশ্ব বাজারে ইথিওপিয়া,পাকিস্তান,ভিয়েতনাম,চীন,শ্রীলংকাসহ অপরাপর দেশ বাংলাদেশের প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে।’
‘এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পোষাক শিল্প খাতে আয় ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এলডিসি উত্তরণের লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে পোষাক শিল্প খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় বিদেশী ক্রেতাদের বাংলাদেশ নিয়ে অসন্তোষ এবং বিশ্ব বাজার প্রতিযোগীতায় তীব্র প্রতিদ্ব›দ্বীতার কারণে গত ৬-৮ বছরে প্রায় ২ হাজার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সচল রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফ্যাক্টরি।’
তারা আরো বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশাল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পোষাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এবং বাংলাদেশ নীটওয়্যার প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিনিধিরা নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। বাংলাদেশসহ চীন,ইংল্যান্ড,ফ্রান্স,জার্মানি,হংকং,ভারত,ইন্দোনেশিয়া,জাপান,কোরিয়া,শ্রীলংকা,তুরস্ক এবং আমেরিকাসহ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং,ডিজাইন,স্টিচিং,ফিনিশিং ,ওয়াশিং এবং প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারীদের সমন্বিত করে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গামেন্টস এন্ড টেক্সটাইল,ফেব্রিক্স এন্ড ইয়ার্ন,প্রিন্ট প্যাক এন্ড সাইন, ডাইজ,পিগম্যান্ট এন্ড ক্যামিক্যাল নিয়ে সমন্বিত ভাবে কাজ করছে ।’
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে জিইসি কনভেনশন হলে তিন দিনব্যাপী রেড কার্পেট লি.-র আয়োজনে চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গামেন্টস এন্ড টেক্সটাইল, ফেব্রিক্স এন্ড ইয়ার্ন,প্রিন্ট প্যাক এন্ড সাইন, ডাইজ,পিগম্যান্ট এন্ড ক্যামিক্যাল বিষয়ক যন্ত্রপাতি নিয়ে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চায়না টেক্সটাইল মেশিনারি এসোসিয়েশন,বিকেএমইএ এবং ওয়েল গ্রুপ ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ’র প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর আহমেদ,বিজিএমইএ প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু,ওয়েল গ্রুপ সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এডি/একুশে