সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন : গাজায় সংঘর্ষে নিহত ২৮

| প্রকাশিতঃ ১৪ মে ২০১৮ | ৭:১০ অপরাহ্ন

নিউজ ডেস্ক : জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার দূতাবাস খোলার দিন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ২৮ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার পদক্ষেপকে পুরো নগরীর ওপর ইসরায়েলের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন হিসাবেই দেখছে। যে জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। সোমবারের সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৪ বছরের এক বালক আছে। হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিও আছে।

এদিন আরো ১ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪৫০’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তিকে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়তে দেখা যায়।

‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের আওতায় গাজার শাসনক্ষমতায় থাকা হামাস গত ছয় সপ্তাহ ধরে সীমান্তে বিক্ষোভ করে আসছে। বিক্ষোভকারীরা বেষ্টনি ভাঙার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভে ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার বিকালে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে। দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জারেড কুশনার ইসরায়েল পৌঁছেছেন। তারা দুজনই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।

কুশনার-ইভাঙ্কা দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মিউচিন ও উপ-পরাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল প্রশংসা করলেও ফিলিস্তিনিরা মার্কিন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে এর প্রবল বিরোধিতা করেছে। দূতাবাস উদ্বোধনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদের জন্য জেরুজালেমে জমায়েত হচ্ছে তারা।

জেরুজালেমকে নিজেদের ‘শাশ্বত ও অখণ্ড’ রাজধানী বলে বিবেচনা করে ইসরায়েল। অপরদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম দাবি করে। তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।

গত বছর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কয়েক দশক ধরে অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।