সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ছয় জঙ্গির ফাঁসি বহাল

| প্রকাশিতঃ ২৮ জুলাই ২০১৬ | ১২:৪৬ অপরাহ্ন

courtঢাকা: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এক যুগ আগে জঙ্গিদের বোমা হামলার মামলায় জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ছয় সদস্যের ফাঁসি বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। দুইজনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আর দুইজনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- এনায়েতুল্লাহ ওরফে ওয়ালিদ, আরিফুর রহমান, সাইদুর রহমান মুনশি ওরফে সাহিদুল মুন্সী ওরফে ইমন ওরফে পলাশ, আবদুল্লাহ আল হোসাইন ওরফে জাইদ ওরফে আকাশ, নিজামুদ্দিন রেজা ওরফে রনি ওরফে কচি এবং তৈয়বুর রহমান ওরফে হাসান। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- মসিদুল ইসলাম ওরফে মাসুদ ওরফে ভুট্রো ও আদনান সামি ওরফে আম্মার ওরফে জাহাঙ্গীর। এছাড়া আশরাফুল ইসলাম ও শফিউল্লাহকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

২০০৫ সালের এই বোমা হামলার আট বছর পর ২০১৩ সালে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল বিচারিক আদালত। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দণ্ডপ্রাপ্তরা।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম শেখ মরিুজ্জামান কবির জানান, এই রায়ে আমরা আংশিক সন্তুষ্ট। আমরা ১০ জনেরই ফাঁসি প্রত্যাশা করেছিলাম। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর আদালত এলাকায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবীসহ আটজন নিহত হন। প্রাণ হারান আত্মঘাতী হামলাকারী আসাদ ওরফে জিয়াও।

গত ২১ জুলাই এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২৮ জুলাই রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির, আসামিপক্ষে শুনানি করেন হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, আইনজীবীদের পোশাক পরে ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর হলে ঢুকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আত্মঘাতী সদস্য আসাদ ওরফে জিয়া ওরফে নাজির ওরফে নাহিদ। এতে হামলাকারী জেএমবি সদস্যসহ আইনজীবী আমজাদ হোসেন, গোলাম ফারুক, নূরুল হুদা, আনোয়ারুল আজিম, বিচারপ্রার্থী আব্দুর রব, বছির উদ্দিন, মর্জিনা আক্তার ও শামছুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলার দিনই জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। দুই বছর পর ২০০৭ সালের ৪ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জেএমবি নেতা এনায়েত উল্লাহ জুয়েল, আরিফুর রহমান আরিফসহ ১৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ সিরাজসহ চারজনকে ঝালকাঠির বিচারক হত্যা মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরেক আসামি মোল্লা ওমর শাকিল কুমিল্লার একটি ঘটনায় নিহত হন। বাকি আসামিরা আদালতে হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।