চট্টগ্রাম: গ্রামে সন্দেহভাজন কারো আনাগোনা দেখামাত্রই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) জানানোর জন্য গ্রাম পুলিশের সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা। শনিবার সকালে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গ্রাম পুলিশ’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
গ্রাম পুলিশদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, আপনাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রিপোর্ট করতে হবে। গ্রামের কোনো আগন্তক ব্যক্তি, সন্দেহভাজক কেউ, অপরাধী, ঠগ কিংবা অচেনা কারোও আনাগোনা হলেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। এছাড়া কোনো অঘটনের আশঙ্কা থাকলে সেটাও জানানো আপনাদের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে আপনাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থাও নিতে পারবে, যা পিআরবি প্রবিধানে বলা আছে।
গ্রাম পুলিশদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করে দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আপনারা চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কোন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহƒত হবেন না। আপনারাও সরকার বা পুলিশের অংশ। তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আপনারা সর্বদা অবিচল থাকবেন।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক জেবাহ উদ্দিন বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। কোন জঙ্গিবাদ, পেট্রোলবোমা আর রগকাটার মধ্যে দিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রসারিত হয়নি। ইসলাম ধর্ম প্রসারিত হয়েছে তার শান্তিপ্রিয় কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু আজ সেই ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত হয়ে গেছে গুটিকয়েক নামধারী সন্ত্রাসীর কারণে। উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত করতে দেশকে জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দশ জন করে গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছে। সে হিসাবে জেলায় পনেরো শত এর অধিক গ্রাম পুলিশ রয়েছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গী কর্মকান্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই বিশাল সংখ্যক গ্রাম পুলিশ যদি আমাদের সাথে শামিল হয়, তাহলে আমাদের বড় একটা শক্তি হয়। চট্টগ্রামের গ্রাম পুলিশ-জেলা পুলিশ ভাই ভাই, সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের এখানে ঠাই নাই।
গ্রাম পুলিশ সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলার ১৯২টি ইউনিয়নের প্রায় ১৪শ গ্রাম পুলিশ সদস্য এবং জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।