বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

তফসিল ঘোষণার পর গ্রেপ্তারি প্রবণতা আরো বেড়েছে : মির্জা ফখরুল

| প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪:৪০ অপরাহ্ন

ঢাকা : নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পর বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা গায়েবী মামলায় গ্রেপ্তারি প্রবণতা আরো বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে  এই অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সরকার বিএনপির গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের জামিন না দিয়ে বরং মিথ্যা গায়েবী মামলায় গ্রপ্তার চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যে সকল প্রাথী জয় লাভ করবে তাদের গ্রেপ্তার করে কারগারে পাঠানো হচ্ছে। জামিন শুনানিতে তাদের নানা বিলম্ব করা হচ্ছে নিম্ন আদালতে।

তিনি বলেন, সরকারি দলকে নির্বাচনে সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই গ্রেপ্তার আটক ও হয়রানী চলছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করা হচ্ছে না। টেলিফোনে বিভিন্ন সংস্থার নামে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনও কোনও বিশেষ প্রার্থীকে ডেকে নিয়ে হুমকী দেওয়া হচ্ছে এবং চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এটাতে নির্বাচনের সকল পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ফখরুল আরো বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি যে সরকারের এ সকল ঘটনায় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশ গ্রহণ মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতটা আন্তরিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ বিরোধী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক আছেন। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে জামিন পাওয়ার পরেও মুক্ত করা হচ্ছে না। একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দেয়ার পর বিলম্ব করা হচ্ছে। সিনিয়র নেতা সাবেক হুইপ, সংসদ সদস্য জনাব মুনিরুল হক চৌধুরী, জনাব লায়ন আসলাম চৌধুরী এফ.সি.এ, যুগ্ম-মহাসচিব-বিএনপি, হাবিবুন-নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব বিএনপি, এ্যাড. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিশেষ সহকারী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, যুবদলেরর সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দকে অটক করে রাখা হয়েছে।

মনোনয়প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গতকাল রাজশাহী ও রংপুরের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষ করেছি। আজ বরিশাল বিভাগের ১৮৩ জনের সাক্ষাৎকার শেষ করেছি। এখন খুলনা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা কী চায় বা কী বলে তাদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে আমাদের কিছু যা আসে না। আমরা এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করি তিনি নির্বাচনের যোগ্য। নিঃসন্দেহে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

প্রার্থিতা নিয়ে কোন্দল আছে কি-না জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আমাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো কোন্দল নাই। যাকে দল সমর্থন দিবে তার পক্ষে সবাই কাজ করবে। কারণ এটা আমাদের চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ। তাই আমাদের একক প্রার্থী এবার ভোটে অংশ নিবে। কারণ এ নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।

প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা দলের প্রতি, দেশের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য থাকবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে দল তাদেরকে মনোনয়ন দিবে। আমাদের বেশির ভাগ প্রার্থী এ বিষয়ে একমত।

ফখরুল বলেন, এটা অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগীতা মূলক নির্বাচনের জন্য অনুকুল পরিবেশ নয়। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও সরকারের এবং এর দায় দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ আটককৃত সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্তি প্রদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

একুশে/আরসি/এসসি