
ঢাকা : নৌকা প্রার্থীদের জয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনও প্রকাশ্যে কখনও নীরবে বাস্তবায়ন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী বলেন, প্রশাসন ও পুলিশের বির্তর্কিত কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নৌকা প্রার্থীদের জয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে।
রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনও প্রকাশ্যে কখনও নীরবে বাস্তবায়ন করছে। কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে গোপন মিটিং হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র্যাব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনও সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না। বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে। ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম-খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগ প্রশাসনিক দাপটের ছবিটা মোটেও বদলায়নি। কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। বিতর্কিত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।
একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এসসি