
চবি প্রতিনিধি : আগের দিনের ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিবদমান দুটি গ্রুপই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয় ও সিএফসি গ্রুপ হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থানরত বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে ৬ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। সোহরাওয়ার্দী হলে সিএফসি গ্রুপ প্রায় ২০টি কক্ষ ভাঙচুর করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এ সময় রামদাসহ তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন, ইংরেজী বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের ফয়সাল, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ১৩-১৪ সেশনের মেহেদী হাসান, বাংলা বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের ইমরান হাসান ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো:আব্দুস সাত্তার, ইতিহাস বিভাগের ১৪-১৫ সেশনের ওসমান গণি ও ইংরেজি বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের রহমত উল্লাহ।
প্রসঙ্গত, গতকাল সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী হল ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন একটি দোকানে সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটি জের ধরে সংঘর্ষ বাধে। এসময় সিএফসির কর্মীরা বিজয়ের একজন এবং বিজয়ের কর্মীরা একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ এক সিএফসি কর্মীকে মারধর করে। পরে পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও সাবেক সহ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, আমরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী বিজয় গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।
অপরদিকে বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, গতকালের ঘটনাটি আমরা সিনিয়ররা মীমাংসার চেষ্টা করলে আজ ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসী আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করে। এসময় তারা আমাদের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। সিএফসি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। আমরা এদের শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আখরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে এবং ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।