
ইফতেখার সৈকত : নারী দিবসের তিন দিন পর আজ (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ প্রাঙ্গনে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক এক মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ বিভাগটির শিক্ষকদের সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার বিষয়বস্তু ছিলো নারীদের দক্ষতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জানান দেওয়া। তবে মেলাটি নারীকেন্দ্রিক হলেও এতে অংশগ্রহণ করে মুক্তমনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষার্থীরাও।
মেলায় নারীদের দক্ষতা ও উন্নয়নের নিদর্শন স্বরূপ ৫টি স্টল বসে। ফুডস্টল, জুয়েলারী ও মেহেদীস্টল, বুকস্টল, গ্রাফিক্স ডিজাইনস্টল ও ফটোগ্যালারি নামক স্টলে ছিলো শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি খাবার, কুটিরশিল্পের সামগ্রী, নকশী কাঁথা, মেহেদী উৎসব, নারী বিষয়ক বইসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জিনিসপত্র।
সকাল থেকে মেলাটি শুরু হয়। প্রকৃতির রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে মেলার আবহাওয়া। বিভাগের শিক্ষকশিক্ষার্থী ছাড়াও মেলায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বেলা ১১টার দিকে ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব মেলাটি পরিদর্শনে করেন।
এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সত্যিই খুব সুন্দর ও মনোরম। তিনি বলেন, নারী আমাদের মা, মেয়ে কিংবা বোন আবার কারো বা জায়া। বর্তমানে এই সভ্য সমাজেও নারীদের অবমাননা করা হয়। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, নারীদের সুযোগ দেওয়া হলে তারাও পুরুষদের মতো দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম। তিনি সকলকে নারীদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়ার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, এই বিভাগটি সর্বপ্রথম এই ধরণের উদ্যেগ গ্রহণ করেছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৃহত্তরভাবে সামনে এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এদিকে, মেলায় আসা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছিলো বাড়তি আমেজ। তাসনিয়া নামে এইচআরএম বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার অনুষদের একটি বিভাগ মেলাটি আয়োজন করলেও এর উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বদিকে।
তিনি বলেন, মেলাটি দেখে খুব সুন্দর লাগছে। বিশেষ করে মেলার সাজসজ্জা, শৃঙ্খলা, ছেলে-মেয়ের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং মেলায় টাঙ্গানো বিভিন্ন ধরণের ফেস্টুনের লিখাগুলো।
তিনি বলেন, এই মেলায় এসে নিজের ভেতর অন্যরকম এক অনুভূতি জাগ্রত হয়েছে। একজন নারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার ও সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি মেললো। এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আমি চাইবো বৃহত্তর পরিসরে এই ধরণের মেলা কিংবা প্রদর্শনীর ব্যাবস্থা করা হয়।
মেলার আয়োজনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিভাগটির দুই শিক্ষক তাসলিমা আক্তার এবং রিফাত রহমান বলেন, আমাদের সাথে যখন শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে তখন আমাদের নিজেদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ কাজ করে। আমরা তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে অনুপ্রাণিত করি। তারা বলেন, অসভ্য সমাজ সভ্য হয়েছে কিন্তু নারীর প্রতি একধরণের নিচু মানসিকতা বর্তমান সমাজে এখনও বিরাজমান।
তারা বলেন, এই আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য নারীদের দক্ষতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পারদর্শিতার জানান দেওয়া। আমরা চাই নারীরাও দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসুক। অসভ্য কিংবা নোংরামি নয় আবার শেকলে আবদ্ধ থেকে ও নয়। নারীর অধিকার আদায় হোক সুস্থ ও সুন্দরভাবে।
মেলাটির স্ট্রাটেজিক পার্টনার ছিল ব্যাংকিং ফেলোজ লিডারশীপ ডেভেলপমেন্ট (বিএফএলডি) ও ফটোগ্রাফি পার্টনার ছিল খুব ভালো ফটোগ্রাফি।
একুশে/আইসি/এসসি