সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চাকসু : ভিপি, এজিএস ছিলেন যারা

| প্রকাশিতঃ ২২ মার্চ ২০১৯ | ৩:৫৩ অপরাহ্ন

ইফতেকার সৈকত : চাকসু। তিন অক্ষরের একটি শব্দ। যার পূর্ণরূপ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান, নাগরিক জীবনে সত্যিকারের নেতৃত্ব প্রদান ও অধিকার সম্পর্কে তাদের মতপ্রকাশের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই গঠিত হয়েছিল চাকসু।

চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি শিক্ষাবর্ষে একবার এই নির্বাচন হবে। মেয়াদ হবে এক বছর। ১৯ সদস্যের চাকসুর কমিটিতে উপাচার্য পদাধিকারবলে সভাপতি। কোষাধ্যক্ষ পদটি শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন মনোনীত করবেন উপাচার্য। বাকি ১৭টি পদ ছাত্রদের। তাঁরা ছাত্রদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জিরোপয়েন্ট দিয়ে পশ্চিমে কাটা পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদ,কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জয়বাংলা ভাষ্কর্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ পেরিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জাদুঘর ও গ্রন্থাঘারের পশ্চিমে, কলা ঝুপড়ি ও বিজ্ঞান অনুষদের মাঝামাঝি জায়গায় তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি হচ্ছে চাকসু। শ্যাওলা মাখানো সাদা বর্ণের এই ভবনটি অনেকদিনই পড়ে রয়েছে গুরুত্বহীন ভাবে। তবে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের চাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে এই ভবনটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

সর্বশেষ যেভাবে আলোচনায় চাকসু:
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যখন সারাদেশে চলছিলো ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। সেসময় গত ১৪ই জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চাকসু নির্বাচনের দাবিতে মানবন্ধন ও প্রতিবিদী সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশ।এসময় তারা এক মাসের মধ্যে চাকসু নির্বাচনের আল্টিমেটাম দেয় প্রশাসনকে।এর পর থেকে ছাত্রলীগের অন্যান্য অংশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচনের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে। ছাত্রলীগের পাশাপাশি চাকসু নির্বাচনের দাবিতে মানবন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা।তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রদল চাকসু নির্বাচন নিয়ে কোন মিছিল বা সমাবেশ করেনি।

সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনঃ
১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন ওইসময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচনের ১০ মাস পর এরশাদের পতন হয়। এর পরের প্রায় ২৮ বছরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু এক বছর মেয়াদের চাকসুর কমিটি এখনো বহাল রয়েছে।

১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয়। তখন ছাত্র শিবিরকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিল ছাত্রঐক্য। এতে বাকশাল (বর্তমানে বিলুপ্ত) সমর্থিত জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা মো. নাজিম উদ্দিন ভিপি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা আজিম উদ্দিন আহমেদ জিএস এবং ছাত্রদলের নেতা মাহবুবের রহমান শামীম এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলো। একই বছর ২২ ডিসেম্বর ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত হন ছাত্রসমাজ নেতা ফারুকুজ্জামান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

কারা ছিলেন চাকসুর ভিপি, জিএসঃ
সর্বপ্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। এরপর মাত্র ছয়বার নির্বাচন হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন শহীদ আবদুর রব ও জিএস হন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯৭২ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে ভিপি হন শমসুজ্জামান হীরা ও জিএস হন মাহমুদুর রহমান মান্না। ১৯৭৪ সালের তৃতীয় নির্বাচনে ভিপি হন এসএম ফজলুল হক ও জিএস হন গোলাম জিলানী চৌধুরী। ১৯৭৯ সালের চতুর্থ নির্বাচনে ভিপি হন মাজহারুল শাহ চৌধুরী ও জিএস হন জমির চৌধুরী। ১৯৮১ সালের পঞ্চম নির্বাচনে ভিপি হন জসিম উদ্দিন সরকার ও জিএস হন আবদুল গাফফার এবং সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিপি নির্বাচিত হন নাজিম উদ্দিন ও জিএস হন আজিম উদ্দিন।

প্রায় তিন দশক ঘুমন্ত থাকার পর অবশেষে জাগ্রত হতে যাচ্ছে চাকসু। ইতিমধ্যে চাকসু নির্বাচনের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামপন্থীদলগুলোসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচনের ইচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি অতি শিঘ্রই গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে সবগুলো ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে কতৃপক্ষ যেন চাকসু নির্বাচনের তাফসীল ঘোষণা করে। একটি সুষ্ঠ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন করাই সকলের প্রত্যাশা।