বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

‘ভুয়া’ দলিল তৈরীর হোতা পিয়ন লিয়াকত!

| প্রকাশিতঃ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১১:২৩ অপরাহ্ন

dolilমামুনুল হক চৌধুরী : ভুয়া দলিল বানিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাতে মেতে উঠেছে একটি চক্র। এই অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে চট্টগ্রামের সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন লিয়াকত আলীর নাম।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- পিয়ন লিয়াকতকে ‘ম্যানেজ’ করতে পারলে ‘ভুয়া’ দলিল তৈরি করা যাচ্ছে।

জানা গেছে, ‘কমিশন’ পদ্ধতিতে দলিল সম্পাদনের জন্য দলিল দাতা ও স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করে সাব-রেজিস্টার। কিন্তু কাগজে কলমে সাব রেজিস্টার থাকলেও মূলত ‘পিয়ন’ লিয়াকতই এসব স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এ সুযোগে পিয়ন লিয়াকতকে ম্যানেজ করেই স্বাক্ষর নিয়ে অন্যের ‘সম্পদ’ আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত একটি চক্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ৫ থেকে ১০টি দলিল কমিশনে সম্পাদন করে চট্টগ্রামের সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস। ওই দলিলের দাতা গ্রহীতাসহ শনাক্তকারী সাক্ষীর শতাধিক সাক্ষীর সাক্ষর সংগ্রহে করেন পিয়ন লিয়াকত আলী। এ সুযোগে তিনি ম্যানেজ হয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করার সুযোগ করে দেন বিভিন্ন ব্যক্তিকে। মূলত এক শ্রেণীর দলিল লেখকরাই তাকে ম্যানেজ করে এসব ভুয়া দলিল তৈরি করে আসছে।

গত ১৭ জুলাই স্বাক্ষর জাল করে দলিল তৈরির অভিযোগে এস এম বাবর নামের এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে এ তথ্য ফাঁস হয়। মামলা নম্বর সি.আর. ১৪৫০/২০১৬। ওই মামলায় সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রহমান, পিয়ন লিয়াকত আলী, কাজী হামিদা বেগম, আবদুল মান্নানসহ চারজনকে অভিযুক্ত করেন তিনি। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায়।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর আহমেদ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি একুশেপত্রিকাডটকমকে বলেন, জাল দলিলটি জব্দ করে সাব-রেজিস্টারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ওই দলিলটি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হতে পারে।

জানতে চাইলে মামলার বাদি এস এম বাবর বলেন, কাজি হামিদা বেগমকে গ্রহীতা ও আমাকে দাতা সাজিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ৩১৪নং দলিল তৈরি করে। ওই দলিলে আমার নাম, ঠিকানাসহ ছবি আছে। কিন্তু আমি ওই দলিলে স্বাক্ষর করিনি। চট্টগ্রামের সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজা ও পিয়ন লিয়াকত আলীকে ম্যানেজ করে কাজী হামিদা বেগম ও আবদুল মান্নান ওই দলিল তৈরি করেছেন। আমি মামলা করেছি। মামলাটি কোতোয়ালী থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পিয়ন লিয়াকত আলী বলেন, ‘মামলা হয়েছে, পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, আমার স্যার (জামিলুর রেজা) যা বলার বলবেন। আপনি অফিসে এসে আমার স্যারের সাথে যোগাযোগ করুন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার ও ভারপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রেজা বলেন, পুলিশ অফিসে এসে দলিলটি জব্দ করেছে। কমিশনে ওই দলিলের সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের দায়িত্বে ছিল পিয়ন লিয়াকত আলী। বিস্তারিত পিয়ন লিয়াকত আলী বলতে পারবে।’

*** ১৫ হাজার বেতনে ২৫ লাখ টাকার গাড়ি!
*** ১৫ হাজার বেতনে ২৫ লাখ টাকার গাড়ির এরাদুলকে নিয়ে দুদক