সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

কাঠফাটা রোদে জারুলের স্নিগ্ধতায় চবি ক্যাম্পাস

| প্রকাশিতঃ ১ মে ২০১৯ | ৫:৫৬ অপরাহ্ন


ইফতেখার সৈকত, চবি: ‘মাঝারি আকারের বৃক্ষের সারি। পত্রদন্ডের বিপরীতে সাজানো পাতাগুলো। শাখার পাতার ওপরের স্তরে থোকা থোকা ফুল।ফুলগুলোর রঙ বেগুনী। প্রত্যেকটি ফুলে ছ’টি করে পাঁপড়ি, মাঝখানে হলুদ পুংকেশর।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আনাচে কানাচে ফুটে আছে ফুলগুলো। সবুজ ক্যাম্পাস রাঙ্গিয়ে দিয়েছে বেগুনী রঙ। বিকেলে ডুবু ডুবু আলোয় ভেসে উঠে এক অপরূপ চিত্র। এ যেন পাহাড়ি গায়ে একখণ্ড বেগুনী ক্যানভাস।

প্রকৃতির কবি জীবনান্দ দাশ বলেছিলেন, এ পৃথিবীর এক স্থান আছে সবুজ করুণ, সেখানে মধুকুপী ঘাসে অবিরল, সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বথ, বট, জারুল, হিজল” জীবনান্দ দাশের ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায় এই ফুলের বৃক্ষের নাম। এটি জারুল বৃক্ষ। যেটি কেবল গ্রীষ্মেই ফোঁটে।শীতে এই বৃক্ষ থাকে নগ্ন মূর্তির মতো। তারপর বসন্ত এলে পাতা গজায়। নতুন বছর এলে গ্রীষ্মের কাঠপোড়া রোদে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক নতুন সাজ। সজ্জিত হয় বেগুনী রঙে।

এই ফুলের বৃক্ষ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি চিহ্নিত স্থান যেটি জারুলতলা নামে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলা, জয় বাংলা চত্বর, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদের সড়ক, দক্ষিণ ক্যাম্পাসসহ প্রায় পুরো ক্যাম্পাস সজ্জিত হয়েছে জারুলের ঝুমকোতে। সৃষ্টি হয়েছে এক অপরূপ নান্দনিকতা। যা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে দিয়েছে নতুন সাজ। চবির সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা।

অনেকটুকু উঁচুতে হওয়ায় ফুলগুলো স্পর্শ করা না গেলেও দৃষ্টি লুফে নিচ্ছে এর সবটুকু সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন জারুল ফুল দেখে অনেকেই বিষ্মিত। অনেকে আবেগ প্রবণ স্থিরচিত্র ধারণ করে রেখে দিচ্ছেন মুঠোফোনে। আবার কেউ বা ছড়িয়ে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতির পুরো রাজত্ব যেন জারুলেরই।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাস্পাসে এমন ফুল দেখে বিষ্মিত হয়ে চট্টগ্রাম কলেজে পড়ুয়া আব্দুল্লাহ আল নোমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যে একটি উন্মুক্ত স্থান তা এই ফুলগুলো দেখলেই বুঝা যায়। মুক্ত পাখির মতো গাছের মগ-ডালে দোল খেলছে আর সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে ফুলগুলো।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এমনিতেই অনেক সুন্দর। তার উপর ফুলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রীষ্মকালে দু একটা ছাড়া খুব বেশি ফুল চোখে পড়ে না। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম ফুলের স্বর্গরাজ্য”।

তাসফিয়া তাবাচ্ছুম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা আমার প্রথম বছর। প্রত্যেক ঋতুতেই এখানে ফুল দেখেছি। ভেবেছিলাম গ্রীষ্মে এর ব্যাতিক্রম কিছু হবে। কিন্তু না, চমক দেখতে পেলাম। খুবই সুন্দর জারুল ফুলগুলো। তার সাথে আরও বেশ কিছু ফুল দেখতে পেয়েছি। এটি প্রকৃতির এক আশীর্বাদ।