চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে লিবিয়াগামী ৩৯ জনকে আটক করেছে র্যাব-৭। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়ে তাদের গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে জানানো হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, বুধবার সকাল ১০টা ১০ মিনিট ও বেলা সাড়ে ১২টায় দুবাইগামী এয়ার এরাবিয়ার দুইটি ফ্লাইটযোগে কিছু লোক অবৈধভাবে লিবিয়ায় যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে লিবিয়াগামী ৩৯ জনকে আটক করে।
লিবিয়ায় মানব পাচারের রুট সম্পর্কে র্যাব কর্মকর্তা মিফতাহ বলেন, দালালরা লোকজন সংগ্রহ করে ঢাকার ফকিরাপুলস্থ হোটেল ড্রিমল্যান্ড, আলিজা, ইসলামপুর, শেল্টার, হোটেল এশিয়া, প্রবাস ইত্যাদি এবং চট্টগ্রামের হোটেল সুইসপার্ক, অলংকার ও রেয়াজউদ্দিন বাজারে হোটেল আল ছালামতসহ অন্যান্য আবাসিক হোটেলে উঠায়। পরবর্তীতে অপরিচিত কিছু লোক এসে এদেরকে ভিসা এবং পাসপোর্ট দিয়ে যায়। বিমানের টিকিট পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এদের যাতায়াতের রুট হল চট্টগ্রাম থেকে দুবাই থেকে তুরস্ক থেকে ইস্তাম্বুল/আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার ত্রিপোলি।
লিবিয়া গমন নিয়ে দালালদের অভিনব প্রতারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চুক্তির মাধ্যমে লিবিয়া পাঠানোর জন্য লোকজনদের প্রলুব্ধ করে। ৩৯ জন ভিকটিমের মধ্যে শুধুমাত্র এক জন ১ লাখ টাকা এবং আরেকজন ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এছাড়া অবশিষ্ট ভিকটিমরা লিবিয়া পৌছানোর পরে টাকা পরিশোধ করবে। লিবিয়া পৌছানোর পরে কিছু কিছু ভিকটিম নিজ উদ্যোগে এবং কিছু কিছু ভিকটিম দালালের মাধ্যমে ইতালি যাবে বলে জানিয়েছে।
মানব পাচারে জড়িত ৩০ জন দালাল ও দুটি ট্রাভেল এজেন্সি সনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সর্বমোট ৩০ জন দালাল এবং দুটি ট্রাভেল এজেন্সি (আল মামুন ট্রাভেলস, পূর্ব জিন্দাবাজার, গ্যালারী মার্কেট, সিলেট) এবং শামিম ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, (সিলেট ব্রাঞ্চ) সনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভিকটিমদের পাসপোর্ট এবং ভিসা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়া ১৯ জন ভিকটিমের ভিসার ইস্যুর তারিখ একই দিন (০৫ অক্টোবর ২০১৬) এবং মেয়াদ ৩০ দিন। বিমানবন্দরের বাহিরে অপেক্ষারত বাকী ২০ জনের ভিসার অনুলিপি দেখে জানা যায় যে, কিছু কিছু ভিসার মেয়াদ মাত্র এক দিনের, কিছু কিছু ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ ও মূল ভিসার পরিবর্তে পাসপোর্টে ভিসার অনুলিপি সংযুক্ত।
মাবব পাচারে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত রয়েছে জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা মিফতাহ বলেন, মানব পাচারকারীদের সাথে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। ভিকটিমদেরকে দুবাই পৌছানোর পর বিমানের টিকেট (চট্টগ্রাম হতে দুবাই) এবং দুবাই এর ভূয়া ভিসা ছিড়ে ফেলতে নির্দেশনা দেয়া হয় এবং সেখান থেকে অন্য আরেকটি চক্রের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে লিবিয়া পাঠানোর কথা ছিল। লিবিয়াতে তাদের রিসিভ করার জন্য দালালচক্রের প্রতিনিধিরা (লিবিয়ার দালাল ঃ সাদিক এবং মোজাম্মেল) এয়ারপোর্টে আসার এবং তারেকে নিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন হোটেলে উঠানোরও কথা ছিল। ধারণা করছি, পরবর্তীতে তাদেরকে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হত।
এ সংক্রান্তে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক বলেন, আটক ৩৯জনকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।