সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

‘তপন মাটিতে চেপে ধরে বাদশা জবাই করে’

| প্রকাশিতঃ ২০ জুলাই ২০১৯ | ৪:৫৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন বন্দরটি এলাকায় আয়েশার মার গলি মনিশ্রী জুয়েলার্স এর মালিক সঞ্জয় ধর (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী বিকাশ কান্তি মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিককে (৫২) আটক করে পুলিশ। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামি মো. শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশাকে (৩৭) জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইপিজেড থানাধীন নিউমরিং এলাকায় মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা আবুল কাসেমের ছেলে বাদশা। সে একজন টমটম চালক।

ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেনের জেরে সঞ্জয় মল্লিক খুন হয়েছে বলছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মো. শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশা (৩৭) ঘটনার বরাতে জানায় , দীর্ঘদিন সঞ্জয় ধরের সাথে আসামি বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিকের সাথে ব্যবসায়িক এবং টাকা পয়সার লেনদেনের বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সঞ্জয় মল্লিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল।

হত্যার পরিকল্পনা যে ভাবে হল :

গত শুক্রবার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বাদশা টমটম চালিয়ে যাওয়ার সময় বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিকের সাথে রাস্তার দোকানের সামনে দেখা হয়। তখন তপন মল্লিক বলে আজ রাতে ১১টার দিকে সঞ্জয়কে শেষ করে দিতে হবে। ওই দিন আয়েশার মার গলির ভিতরে বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক ও ডা. বিশ্বজিৎ (ঔষধের দোকানদার) কথা বলছে। বাদশা তপন মল্লিকের দোকানে উপস্থিত হইলে তপন মল্লিক জানান জবাই করার জন্য একটি ছোরা দরকার। তখন বাদশা টমটমের পিছনে থাকা ছুরি নিয়ে আসে। এরপর বাদশা দোকানে ঢুকার সাথে সাথে সঞ্জয়ের মুখ চেপে ধরে। তারপর বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক ও ডা. বিশ্বজিৎ দোকানে ঢুকে। বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক সঞ্জয় ধরের হাত-পা চেপে ধরে এবং ডাঃ বিশ্বজিৎ জোর পূর্বক সঞ্জয় ধরের ডান বাহুতে ইনজেকশন পুশ করে ইনজেকশনের সিরিজটি মাটিতে ফেলে বাহিরে চলে যায়। তপন মল্লিক সঞ্জয় ধরকে মাটিতে ফেলে চেপে রাখে। একপর্যায়ে বাদশা তার হাতপা জোর পূর্বক চেপে ধরে এবং বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক মো. শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশা প্যান্টের কোমরে থাকা ছুরি বের করে বাম হাত দিয়ে সঞ্জয় ধরের মাথা চেপে ধরে এবং ডান হাত দিয়ে সঞ্জয় ধরের গলার ডান পাশে জবাই করে দেয়। পরবর্তীতে বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক উক্ত ছোরা দিয়ে সঞ্জয় ধরের পেটের দুই পাশে আরো দুইটি ঘাই মারে। এরপর বাদশা দোকানে থাকা সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে নিয়ে মাটিতে ফেলিয়া দেয় এবং বিকাশ মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক সিসি ক্যামেরার মেশিন ছিড়ে নিয়ে চলে যায়।

প্রসঙ্গত, উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর), সিএমপি, চট্টগ্রাম জনাব হামিদুল আলম, বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর), সিএমপি, চট্টগ্রাম জনাব আরেফিন জুয়েল, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর), সিএমপি, চট্টগ্রাম জনাব মো. কামরুল হাসানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মো. নূরুল হুদার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মুহাম্মদ ওসমান গনির নেতৃত্বে হত্যাকণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ অসামিদের আটক করে রহস্য উদঘাটন করে।

একুশে/এসসি