মামুনুল হক চৌধুরী : চট্টগ্রামের রেজিস্ট্রি অফিসে অভিনব কায়দায় ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব চলছে। খোদ সাব রেজিষ্ট্রারের সহযোগিতায় রেজিস্ট্রি অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্পত্তি হস্তান্তরমূল্য কম দেখিয়ে কিংবা একটি বিশেষ কায়দায় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ৯ জুন মো. রিদোয়ান নামের এক ভেন্ডারের কাছ থেকে চট্টগ্রামের আইনজীবী সমিতির দোয়েল নামের ভবনের নীচতলার একটি দোকান ক্রয় করেন মো. এমরান নামের একজন। ওই দোকানের বিক্রয়মূল্য ছিল ১৫ লাখ টাকা। বাণিজ্যিক স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিক্রয়মূল্যের উপর সাড়ে ১১ শতাংশের সাথে প্রতি বর্গফুটে ১ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব পেত সরকার। এ হিসেবে সরকার পেত প্রায় ৩ লাখ টাকা। কিন্তু ৩২৬ টাকা রেজিস্ট্রশন ফি দিয়ে ‘দখলসত্ত্ব চুক্তি হস্তান্তর’ নামের শিরোনামে ওই দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলটি ৪ নম্বর ভলিয়মের ৮৯৪৬ ক্রমিকে ৬৩ নম্বর দলিল হিসেবে রেজিস্ট্রি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিলে এ বিশাল অংকের রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেন চট্টগ্রামের সদর সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজা।
এর আগে একই ভবনের হাসিনা আক্তার নামের এক নারী জনৈক আবছার নামের এক ভেন্ডার থেকেও একটি দোকান ক্রয় করেন। একই প্রক্রিয়ায় তিনিও দলিলটি সম্পাদন করেন। হাসিনা আক্তার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মকর্তার স্ত্রী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চকবাজার গোলজার টাওয়ারের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার একাধিক দোকান ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রি হয় সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। ওই সব দোকান ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলগুলো রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে জানা গেছে। কায়সার আলী চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি ১০ লাখ টাকায় গুলজার টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় একটি দোকান কেনেন। ওই দোকানটিও এই প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রি করে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি দেখাশুনা করার জন্য নির্দিষ্ট ফোরাম কিংবা কর্তৃপক্ষ আছে। গণমাধ্যমকে এধরনের অনিয়ম প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্নের জবাব আমরা দিতে বাধ্য নই। তবে গণমাধ্যমের প্রশ্ন তোলার অধিকার আছে।’
ঘুষ নিয়ে মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক ভবনের কোনো দোকান হস্তান্তর হলে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও রেজিস্ট্রেশন আইনের যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে দলিল রেজিস্ট্রশন করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারনির্ধারিত রাজস্ব নেওয়া হয়।’
*** ডিসি অফিসের প্রধান সহকারী ইউনুছের ‘ধনকুবের’ কাহিনী
*** পিয়নের পরিচয় ‘কোটিপতি রুবেল’!
*** সেই কোটিপতি পিয়ন রুবেলকে বদলী
*** অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে ষোলশহর ভূমি অফিস!
*** চট্টগ্রাম কারা মেডিকেল অপরাধীদের বিলাসী ঠিকানা
*** ১৫ হাজার বেতনে ২৫ লাখ টাকার গাড়ি !
*** ‘ভুয়া’ দলিল তৈরীর হোতা পিয়ন লিয়াকত!
*** বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীর হাতে আলাদিনের চেরাগ!
*** মামলা নিয়ে সওদা করেন পেশকার নুর মোহাম্মদ !