
চট্টগ্রাম : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৪, জয়ন্তী রানী রায়ের আদালতে মামলাটি করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলম। বাদিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে দুদুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত তদন্তের জন্য রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আলমের অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর শামসুজ্জামান দুদু একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যেভাবে শেখ মুজিব বিদায় হয়েছে, শেখ হাসিনাও বিদায় হবেন।’ এতে জনগণের মাঝে ভয় ও ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পূর্বেও এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দুদু ও একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা এখন শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। এর আগেও তাকে ১৯ বার হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। মামলায় উল্লেখ করেন ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আলম।
অন্যান্য অতিথির সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন- ‘কৌশল হচ্ছে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এ বক্তব্যের পর সারা দেশে ছাত্রলীগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি নিখিল কুমার নাথ একুশে পত্রিকাকে বলেন, গত সোমবার রাতে ডিবিসি নিউজের একটি টকশোতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট মুজিবের যে পরিণতি হয়েছিলো আপনিও সেই পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। বিষয়টি শুনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলম দলের একজন কর্মী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবন শঙ্কার আশংকা করে মামলাটি করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী নুরুল আলম শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্যটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে বসে শুনেছিলেন বিধায় মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানায় দেয়া হয়েছে।