সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

জিকে শামীমের ৭ দেহরক্ষীর রিমান্ড মঞ্জুর

| প্রকাশিতঃ ১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫:৫১ অপরাহ্ন


ঢাকা: অস্ত্র মামলার পর অর্থপাচার মামলায় যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার সিআইডি পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রিমান্ড মঞ্জুরের এ আদেশ দেন।

সাত দেহরক্ষী হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মুরাদ হোসেন, মো.জাহিদুল ইসালাম, মো.শহিদুল ইসলাম, মো.কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আমিনুল ইসলাম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে রিমান্ডে থাকা আসামি জি কে শামীমসহ সাত দেহরক্ষীকে আটকের সময় নগদ এক কোটি ৮১ লাখ টাকা, নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুর ডলার, জি কে শামীমের মায়ের নামে ট্রাস্ট ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার করে চারটি এবং ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক মহাখালী শাখায় ১০ কোটি টাকা করে চারটি এফডিআর, শামীমের নামীয় টাস্ট ব্যাংক কেরানীগঞ্জ শাতায় ২৫ কোটি টাকার একটি এফডিআর জব্দ করা হয়। এছাড়া ৩৪টি ব্যাংক একাউন্টের চেকবইও উদ্ধার হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো সদুত্তর বা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করার জন্য মজুত রেখেছিল বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেদের সামনে স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন।

তাই অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে জেনারেল রেকর্ডিং অফিসার (জিআরও) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ রকিবুল ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুর রহমান হাওলাদারসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের শুনানিতে বলেন, এ মামলার মূল আসামি জি কে শামীমের ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। কিন্তু এ আসামিদের একজনেরও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। বৈধ অস্ত্রের মামলায় এর আগে তাদের চার দিনের রিমান্ড হয়। তাই তাদের রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের রিমান্ডে নেওয়া মানেই শারীরিকভাবে টর্চার করা।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে অস্ত্র মামলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর এ সাত আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রিমান্ড শেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।