বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

নিম্নচাপের প্রভাবে স্থবির জনজীবন

| প্রকাশিতঃ ৫ নভেম্বর ২০১৬ | ৬:৫২ অপরাহ্ন

google-maps-weather-irene-650x328চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে সমুদ্র বন্দরগুলোতে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে ৬৫টি বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে শনিবার লাইটার জাহাজগুলো বহির্নোঙরে যায়নি। এতে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে জলোচ্ছ্বাসের আঘাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা এবং সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলা, পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে নগরীর দামপাড়ায় বিদ্যুৎ উপ শাখা কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (৬৩০৭৩৯ ও ৬৩৩৪৬৯) খোলা হয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ বলেন, সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলায় বহির্নোঙরে লাইটারেজ যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙরে পণ্য খালাসরত ৬৫টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস আপাতত বন্ধ রয়েছে। এসব জাহাজে আছে সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, জ্বালানি তেল উত্যাদি রয়েছে।

এদিকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেটি ও বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজগুলোর নিরাপদে অবস্থান এবং জেটিতে আমদানি পণ্য সুরক্ষাসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, করনীয় নির্ধারণে শনিবার সন্ধ্যায় বন্দর ভবনে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুর্যোগময় মুহূর্তে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এসময় বিভিন্ন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার রিয়াজুল কবির বলেন, জেদ্দা ও আবুদাবি থেকে দুটি বিমান চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল শনিবারে দুপুরে। কিন্তু প্রতিক’ল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে না এসে দুটি বিমান ঢাকায় অবতরণ করে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আলম বলেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নি¤œচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার সকাল নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘গভীর নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দম্কা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি পড়ছে চট্টগ্রামে। দিনভর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির সংখ্যা অনেক কম। শনিবার বিকেলে হেডলাইট জ্বালিয়ে অনেক গাড়ি চালাতে দেখা গেছে।