চট্টগ্রাম: অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে সারাদেশের ৬২ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সহায়, সম্বলহীন ৫০ লাখ পরিবারকে সরকার দশ টাকা কেজি দামে চাল বিক্রির মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কিন্তু কিছু ডিলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সারাদেশের ৬২ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এতে কিছু সরকার দলীয় লোকও আছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচিকে কোনভাবে ব্যাঘাত করতে দেওয়া হবে না। তাই অনিয়ম দুর্নীতিতে যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কেননা পরিকল্পিতভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আগে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য রফতানি করা হয়।
জনগণকে সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভেজালের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলংকা, ভারত, ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের আলোকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন এ আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্ব সকলের। জনসচেতনতার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপদ করা সম্ভব।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ আবদুল ওয়াদুদ দারা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ মাহফুজুল হক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন প্রমুখ।
এর আগে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতার লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।