
চট্টগ্রাম : লোহাগাড়ায় বার আউুলিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি চাঞ্চল্যকর মাহবুবুর রহমান বাপ্পী হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি মোরশেদ আলম নিবিলকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।
মোরেশদুল আলম নিবিল লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার দলীয় সাংসদ ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া নিবিল চাঞ্চল্যকর বাপ্পী হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত পলাতক আসামি। আজ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদের পুরান বিওসি এলাকায় মাহবুবুর রহমান বাপ্পীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন নিহতের মা জেসমিন আক্তার বাদি হয়ে ১১ জনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন।
জানা যায়, মামলাটি প্রথমে এক বছর তদন্ত করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়। তাঁরাও তদন্ত করে প্রায় দেড় বছর। এরপর মামলা পাঠানো হয় সিআইডিতে। প্রায় দুবছর তদন্ত শেষে তারা আদালতে চার্জশীট দেয়।
চার্জশীট দেওয়ার আগে মামলায় ৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আসে। আদালতে শাহাদাত ও রুবেল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তারা বলেন, বালুর ব্যবসার বিরোধকে ঘিরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পরিকল্পনা হয় যুবলীগ নেতা বাদশা খালেদের বাড়িতে। সেখানে শাহাদাত, নিবিলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাদশা খালেদ গত চার মাস আগে আদালতে আত্মসমপর্ণ করেন। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে নাম আসা নিবিল দীর্ঘদিন পর গতকাল গ্রেপ্তার হলেন।
শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রিদওয়ানুল হক সুজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নিবিলসহ অন্যরা এতদিন গ্রেপ্তার এড়ানো কিংবা পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত বাপ্পীর মায়ের আর্তনাদ সর্বোপরি এলাকাবাসীর সোচ্চার অবস্থানের কারণে হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িতরা একে একে গ্রেপ্তার হচ্ছে। আমরা চাই, ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পী হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।