শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: ৪ আসামির ছাত্রত্ব বাতিল

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২০, ৩:০৭ অপরাহ্ণ


সিলেট : সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজে নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে এমসি কলেজ থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সালেহ আহমদ জানান, গতকাল (সোমবার) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১০তম সিন্ডিকেট কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ।

সভায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও বর্বর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভপ্রকাশ করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এ ছাড়া অধিভুক্ত কলেজগুলোতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন, বিএসএস ডিগ্রি পাসকোর্সের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত ছাত্র সাইফুর রহমান (২৮), ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি মাস্টার্স ফাইনাল বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), বিএসএস ডিগ্রি পাসকোর্সের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম (২৫) এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান (২৫)।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে রাত সাড়ে ১০টায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওসিসিতে ভর্তি করে পুলিশ। গণধর্ষণের ঘটনায় পরদিন এসএমপির শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তরুণীর স্বামী।

এই ঘটনা তদন্তে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তদন্তে ওই চার শিক্ষার্থীর ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।