শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কারাগারে ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে?

| প্রকাশিতঃ ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১:১৬ অপরাহ্ন


শরীফুল রুকন : এক সময় কারাগারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির ‘সুবিধাভোগী’ ছিলেন জেল সুপার থেকে কারারক্ষী পর্যন্ত। কিন্তু এখন সেই অনিয়ম-দুর্নীতির ‘বড় ভুক্তভোগীতে’ পরিণত হচ্ছেন তারাই। বর্তমানে দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধান ও তদন্তকে কেন্দ্র করে কারা কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও দোষারোপ নিয়ে অস্থিরতা চলছে কারাগারগুলোতে। একই সঙ্গে দানা বেঁধেছে সন্দেহ-অবিশ্বাস। খোদ কারা কর্মকর্তারা বলছেন, ‘তাদের চেইন অব কমান্ডে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাদের মুখ থেকে হাসি উধাও হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কারাগারে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা বা খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।’

একাধিক কারা কর্মকর্তার মতে, এই অস্থিরতার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর- সেদিন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহগামী ট্রেন থেকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত), ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নগদ চেক, ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ রেলওয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে; তখন তিনি চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিকসহ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। এরপর ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিকের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে নিয়ে অভিযানে বের হয় দুদক দল। তখন তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৮০ লাখ টাকা। এসব ঘটনা সারা দেশের কারাগারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। দুদকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্তে নামলে কারা কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয় নামে-বেনামে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও দোষারোপ।

একজন কারা কর্মকর্তা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘একজন জেল সুপার ৫০০ কোটি টাকার মালিক- এমন অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব বরাবর বেনামে চিঠি লেখা হয়েছে। তাহলে সিনিয়র জেল সুপার ও ডিআইজিরা কত টাকার মালিক হবেন? আমি মনে করি, এসব অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। এভাবে বেনামে চিঠির কারণে কারা বিভাগ হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে, অনেকে কটূক্তি করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই কারা বিভাগে লোকবল সংকট আছে। তার উপর এ ধরনের অভিযোগের চাপে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে, কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন না কর্মকর্তারা। যার কারণে কারাগারে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে আমি মনে করি। আমিও চাই, কারারক্ষী থেকে শুরু করে সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যন্ত দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হোক- কিন্তু এটা আদৌ সম্ভব কিনা আমি জানি না।’

একজন ডেপুটি জেলার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অপরাধীদের দেখভাল করতে গিয়ে আমাদের কেউ কেউ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এ সংখ্যা খুব বেশি না। তারপরও কারাগারের অসংখ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অভিযোগের পাহাড় জমে আছে। এভাবে অভিযোগের জালে আটকে সংশ্লিষ্টরা অস্থিরতায় ভুগছেন। যার প্রভাব কারাগারের দৈনন্দিন কাজকর্মেও পড়ছে। এসব অভিযোগ দ্রুত পুরোপুরিভাবে নিষ্পত্তি করে কারাগারকে ঢেলে সাজানো উচিত বলে আমি মনে করি। আর যারা সরাসরি গুরুতর অপরাধে জড়িত তাদেরকে একেবারে বরখাস্ত করা হোক। তাদেরকে রেখে দিলে কোনভাবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’

একটি কারাগারের জেলার একুশে পত্রিকাকে বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কারাগারের দুর্নীতি খোঁজা শুরু হলে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যদের জড়িয়ে দিচ্ছেন জুনিয়র কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীরা। আবার কারও পদোন্নতির সময় হলে তখনও অভিযোগ করা হচ্ছে, এ ধরনের অভিযোগ করছেন পরবর্তী সিরিয়ালে থাকা অফিসাররা। আবার থাকা-খাওয়ার অনিয়মের কারণে হতাশাগ্রস্ত কারারক্ষীদের কেউ কেউ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। বেশিরভাগ অভিযোগই বেনামে করা হচ্ছে।’

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানার গ্রেপ্তারের পর ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনকে সরিয়ে দেয়া হয়। ওই পদে নিয়োগ পান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা। দায়িত্ব পেয়ে তিনি কারাগারে ‘চেইন অব কমান্ড’ ফেরানোর চেষ্টা করেন। তার প্রমাণ মিলেছে একুশে পত্রিকার হাতে আসা কারা অধিদপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জেল সুপারদের একটি কনফারেন্সের কার্য বিবরণীতে তখনকার আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশার বক্তব্য উল্লেখ আছে। সেদিন আইজি প্রিজন এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘কারাগারকে আমরা সংশোধনাগার হিসাবে দেখতে চাই। আপনারা জানেন, পাহাড়ে উঠা খুবই কঠিন। কিন্তু সেখান থেকে নিপতিত হওয়া ক্ষণিকের ব্যাপার মাত্র। কেউ দেখে শিখে, আবার কেউ পড়ে শিখে। আমি আশা করবো, আপনারা বাংলাদেশ জেল এর উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। আমাদের চেইন অব কমান্ডে কিছুটা সমস্যা আছে। ইউনিফর্মধারী চাকরির ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’

‘আমরা যদি আয়নায় নিজের চেহারা দেখতাম তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজভাবে হয়ে যেত। ইদানিং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘ব্লেম গেইম’ হচ্ছে। এ খেলায় সহজে কিন্তু কেউ জয়লাভ করতে পারে না। কারাগারে দুর্ঘটনা ঘটছে, আর আমরা ঘুমাচ্ছি, এটা হতে পারে না। সেন্স অব রেসপনসিবিলিটি প্রদর্শন করতে হবে। আপনার অধীনস্ত কর্মচারীর দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেই আপনারা বদলির সুপারিশ করেন, মনে রাখবেন বদলিই একমাত্র সমাধান নয়। জুনিয়রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না। এতে আপনার দুর্বলতা প্রকাশ পায়।’

জেল সুপারদের উদ্দেশ্যে সেদিন এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা আরও বলেছিলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমরা একটা খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। আমার অনুরোধ, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন এবং চেনই অব কমান্ড মেনে চলুন। আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। মনে রাখবেন, ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। একটি প্রবাদ আছে, শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে। প্রত্যেকের কষ্ট বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।’

ওই কনফারেন্সে নারায়ণগঞ্জের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘কারও মুখে আজ হাসি নেই এবং তা বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কারা বিভাগের জন্য বড় দুর্ঘটনা বা খারাপ কিছু আসতে পারে।’ সেদিন বরিশাল বিভাগের ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারা বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথের কাটা আমরা নিজেরাই। আমরা কর্মকর্তারা ভন্ডামী হতে বের হতে পারি না। আমরা দুস্কর্ম করে আমাদের আপগ্রেডেশন টেনে ধরছি এবং তা চেইন অব কমান্ডের জন্য ক্ষতিকর। আমরা সরকারের টাকা অপচয় করে অনেক দেশ ভ্রমণ করি। ইমেইলে দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করি। এটা মহামারী রোগ। এটা বন্ধ করতে হবে।’

উক্ত কনফারেন্সে সমাপনী বক্তব্যে আইজি প্রিজন এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘আমাদের জন্য বেনামি পত্র মহামারী আকার ধারণ করেছে। আমরা বেনামি পত্র থেকে রক্ষা পেতে চাই। আমি বলবো না, আগামীকালই শতভাগ সম্ভব। কিন্তু ধীরে ধীরে এ থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে, যদি আমরা ধ্বংস হতে না চাই। যদি কারা বিভাগের মঙ্গল চাই তাহলে এ কাজ হতে বেরিয়ে আসতে হবে। ঈমান নিয়ে কাজ করতে হবে, তাহলে বেরিয়ে আসতে পারবো। আর যদি না করি তাহলে অনেক ক্ষমতাবানও কিন্তু ধ্বংস হয়েছে। আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, এখনও ভালো হবার সময় আছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে যাচ্ছি, আমাদের কারাগারকে উন্নয়নের কাতারে নিতে হবে। আমরা বসে থাকবো না। আমরা আজ অন্য ডিপার্টমেন্টের উন্নয়নের কথা বলি, কিন্তু তাদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি নেই। মাথা নিচু করে কতদিন চলবেন। আপনার মাথা নিচু মানে আমার মাথাও নিচু।’

এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা কথা বলে কারা কর্মকর্তাদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ করে সুপথে ফেরানোর চেষ্টা করেও তেমন একটা সফল হননি আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা। এর মধ্যেই ২০২০ সালের ৬ আগস্ট সকাল সোয়া ১১টায় কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে তৈরি করা মই বেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পালানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শাস্তি হিসেবে ছয়জনকে বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করে কারা অধিদপ্তর। এরপর ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ৪২ জনকে ডিঙিয়ে নারায়ণগঞ্জের কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার দাশকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) করা হয়। এ ঘটনায় আইজি প্রিজনকে বেনামে চিঠি দিয়ে কারা কর্মকর্তারা হতাশার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে আরও বিভিন্ন কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে এক বছর ১০ মাস দায়িত্ব পালন শেষে সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীতে ফিরে যান এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।

এরপর ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুনকে নতুন আইজি প্রিজন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কারাগারে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনিও নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপরও কারাগারে সংঘটিত অনিয়ম-অপরাধ একের পর এক সামনে আসছে। সম্প্রতি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দী হল-মার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদ বিধি লঙ্ঘন করে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। বরখাস্ত করা হয় কাশিমপুর-১ কারাগারের তখনকার জ্যেষ্ঠ জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা ও ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলায়েনসহ ১১ জনকে। এ ছাড়া আরও সাতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তুষার-কাণ্ডে জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নূর মোহাম্মদ-দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। রত্না রায় কারা মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বন্দীকে নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে জেলার নূর মোহাম্মদ ১ লাখ টাকা নিয়েছেন। আর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলায়েন ২৫ হাজার এবং দুই কর্মচারী ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। যদিও রত্না রায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। আর জেলার নূর মোহাম্মদ বলছেন, হল-মার্কের তুষার ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রত্নার দারুণ সম্পর্ক। রত্না রায় নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি (নূর মোহাম্মদ) বন্দীকে নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেন।

এদিকে চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব কারাগারে কারাবন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বন্দী বেচাকেনা, হাসপাতালে থাকা, আসামির জামিন, বন্দী রোগী বাইরের হাসপাতালে পাঠানো, পুনরায় গ্রেপ্তার, খাবার বা টাকা পাঠানো, ক্যান্টিন, মালামাল তল্লাশি করাসহ সবক্ষেত্রেই এখনও বাণিজ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্যবসায়িক বৈঠক আয়োজনের অভিযোগও এসেছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে কারাগারগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর কীভাবে গণমাধ্যমে বা সাংবাদিকদের কাছে যায়, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কারা অধিদপ্তর। এজন্য গত ৩১ জানুয়ারি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। অথচ এর আগে কখনো এমন তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা শোনা যায়নি।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কারা সংস্কার কমিশন গঠন করা উচিত বলে মনে করছেন সাবেক আইজি প্রিজন লিয়াকত আলী খান। তিনি জানান, কারা কমিশন হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে, পাকিস্তান হওয়ার পর ১৯৫৬ সালে এবং বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৮০ সালে। তারপর ৪০ বছর হয়ে গেলেও কোনো কারা সংস্কার কমিশন হয়নি।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা (কারা সংস্কার কমিশন) একটা পজেটিভ চিন্তাভাবনা। আমিও মনে করি, সংস্কারের জায়গা এখানে (কারাগারে) আছে, এটা দরকার। যে অবস্থায় আমরা এখন আছি, সেখান থেকে সংস্কারের মাধ্যমে একটা নতুন কাঠামো দাঁড় করানো গেলে, এখন যে জঞ্জাল-সমস্যাগুলো আছে, সেখান থেকে উত্তরণের পথ পাওয়া যাবে, এটা আমার বিশ্বাস।

বেনামি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সন্দেহ-অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, ‘আমরা নিয়মের মধ্যে থাকতে চাই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা কাজ করতে চাই। এখন যারা অনিয়ম করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যখন প্রমাণিত হবে, তখন সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আমরা যদি নিয়মের মধ্যে থাকি, সেখানে আতঙ্ক বা কোনো ধরনের ভয়ের কিছু নেই।’

চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, এ ধরনের কোনো সমস্যা আছে। তবে চেইন অব কমান্ড অবশ্যই থাকা উচিত। কেউ ব্যত্যয় করার চেষ্টা করলে আমি মনে করি তিনি সেটা সঠিক করবেন না, সেটা সঠিক চিন্তাও হবে না। আমাদের উদ্দেশ্য হল, সবাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে থাকবে, আমাদের যে বিধিবিধান, নিয়মগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে থেকে আমরা যদি কাজ করি, অবশ্যই সেখানে উন্নতির একটা সম্ভাবনা থাকবে।’

কারাগারের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণ কামনা করে আইজি প্রিজন মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ব্যাপারে আপনাদের (সাংবাদিক) সহযোগিতা অবশ্যই দরকার। কারাগার খুব স্পর্শকাতর একটি জায়গা। কিছু ভুল-ত্রুটি থাকবেই। সবকিছুই আপনারা যদি একটু পজেটিভভাবে দেখেন, তাহলে এখান থেকে সংশোধনের উপায় আপনাদের মাধ্যমে আমরা খুঁজে বের করতে পারি। আপনারা যদি আমাদেরকে ভুল-ক্রুটিগুলো ধরিয়ে দেন, অবশ্যই আমরা সেখান থেকে সংশোধনের পথ খুঁজে নেব।’