শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

বাবার বন্দিদশায় আমিরাতের রাজকুমারী!

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : রাজকুমারী শেখ লতিফা আল মাখতুম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাহমুদের মেয়ে। তার ৬ স্ত্রীর ৩০ সন্তানের একজন লতিফা।  তার বর্তমান বয়স ৩৮ বছর। তাকে শেষবারের মত দেখা গিয়েছিল ১৯ বছর বয়সে। ২০১৮ সালে বাবার বন্দীদশা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন একবার, সেটি ব্যর্থ হয়েছিল।

এরপর তিনি বন্ধুদের কাছে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে অভিযোগ করেন, নিজের পিতাই তাকে ‘জিম্মি’ করে ঘরে বন্দি করে রেখেছেন এবং তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তাকে যে বাড়িতে বন্দি করা হয়েছে সেখানে তিনি চিকিৎসা-সহায়তাও পাননি।

বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানকে দেয়া ওই ফুটেজে রাজকুমারী লতিফা আল মাখতুম বলেন, তিনি নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার পর কমান্ডোরা তাকে অচেতন করে আবার বন্দীশালায় নিয়ে আসে। এদিকে গোপনে পাঠানো ভিডিও বার্তাগুলো আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা জাতিসংঘকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে জানিয়েছিল যে, তিনি তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নিরাপদেই রয়েছেন।

এদিকে জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন আরব রাজকুমারীকে উল্লেখ করেছেন একজন ‘বিপদগ্রস্থ তরুণী’। তিনি বলেছেন, ওই রাজকুমারীর পরিবার তাকে ‘ভয়াবহভাবে ধোঁকা দিয়েছিল।’

লতিফার বর্তমান অবস্থা এবং তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘লতিফার বিষয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন রয়েছি। সবকিছু বদলে গেছে। আর তাই আমার মনে হয়ে এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।’ লতিফার পিতা শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাখতুম বিশ্বের ধনী রাষ্ট্র প্রধানদের একজন – তিনি দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

২০১৮ সালের ভিডিও বার্তায় কী বলেছিলেন লতিফা

লতিফাকে পালানোর সময় আটক করার পর দুবাইয়ে ফেরত নেওয়ার বছর খানেক পর গোপনে পাওয়া একটি স্মার্ট ফোনে কয়েক মাস ধরে ওই ভিডিওগুলো রেকর্ড করেছিলেন তিনি। তিনি বাথরুমে বসে সেগুলো রেকর্ড করেছিলেন।

২০১৮ সালে তাকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন ফিটনেস প্রশিক্ষক টিনা জাওহিআইনেন। তিনি জানান, লতিফার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ ভিডিও প্রকাশের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাকে। লতিফা তার ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের আশংকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, তাকে একটি প্রাসাদে বন্দি করা হয়েছে। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সহায়তাও দেওয়া হয় না। পুলিশ পাহারায় সে বাড়ির জানালাগুলোও বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে তিনি ভিডিওতে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে রাজকুমারী লতিফার সৎমা প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসাইন তার দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

একুশে/এসএ/এটি