শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

ধুন্ধুমার প্রেম থেকে ফাঁসির মঞ্চে!

স্বাধীন ভারতে প্রথম কোনও নারীর ফাঁসি

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : প্রেমিককে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় নিজ হাতেই খুন করেন বাবা, মা, ভাই, ভাবি, ভাইপোসহ পরিবারের ৭ সদস্যকে! ২০০৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়ঙ্কর এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হন শবনম আলী (৩৫)।

১৩ বছর পর সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির অপেক্ষা করছেন শবনম আলি। এখনও পর্যন্ত শবনমের ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক না হলেও স্বাধীন ভারতে প্রথম নারী হিসেবে ফাঁসির রশিতে ঝুলবেন শবনম।

জানা গেছে, পাড়ার ছেলে সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শবনমের। সেলিমকে বিয়ে করবেন বলে জেদ ধরে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত যার পডালেখার দৌড়, সেই সেলিমের সঙ্গে ডবল এমএ পাশ মেয়ের বিয়ে দিতে চাননি শবনমের পরিবারের লোকজন। তাতেই সেলিমের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে পরিবারের সদস্যদের শবনম খুন করেন।

পুলিশ সূত্র মতে, মা-বাবা, দুই দাদা, বৌদি, ১০ মাসের ভাইপো এবং এক আত্মীয়কে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে প্রথমে অজ্ঞান করে দেন। তারপর গলার নলি কেটে একে একে সকলকে খুন করেন। ২০১০ সালে সেই মামলায় শবনম এবং সেলিম দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সাজা মওকুফের জন্য তার পর থেকে গত ১১ বছরে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছেন শবনম।

নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখতে সুপ্রিম কোর্টে আলাদা করে আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। তবে বিচারবিভাগীয় কমিটির কাছে আবেদনটি ফের একবার পুনর্বিবেচনা করে দেখা এবং কিউরেটিভ পিটিশন দায়ের করার উপায় এখনও শবনমের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, সব আইনি দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শবনমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। তবে শবনমের ফাঁসি কার্যকর করার দিন ক্ষণ এবং সময় ঠিক করতে আমরোহা দায়রা আদালতে ইতিমধ্যেই আবেদন জমা পড়েছে।

প্রায় ১৫০ বছর আগে তৈরি মথুরা জেলই দেশের মধ্যে একমাত্র জেল, যেখানে মহিলাদের ফাঁসি কার্যকর করার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাধীন ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও মহিলাকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি। তাই সেখানকার ফাঁসিকাষ্ঠ অব্যবহৃতই রয়ে গেছে।

তবে মথুরা জেলে পুরোদমে ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। জেল কর্তৃপক্ষকে শবনমের ফাঁসির প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে বলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। মথুরা জেলের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট শৈলেন্দ্র মৈত্রে বলেন, ‘ফাঁসিকাষ্ঠে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে। বিহারের বক্সার জেল থেকে ফাঁসির দড়ি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পবন জল্লাদ এসে একবার সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন।’

তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর পরোয়ানা তাঁদের হাতে এসে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ।