শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

‘চোর-ডাকাতদের কাছ থেকে মধু খেয়ে চুপচাপ থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ৭:২৯ অপরাহ্ণ


ঢাকা : পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপি ইস্যুর শুনানিতে হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর ধরে চোর ডাকাতরা বসে ছিলো, তাদের থেকে মধু খেয়ে চুপচাপ থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তারা।’

এ বিষয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদকের চেয়ারম্যান ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য শুনবে হাইকোর্ট।

গত ২১শে জানুয়ারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও তার বেশি ঋণখেলাপি হওয়া ২৮০ জনকে তলব করে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি খুরশিদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে ১৪৩ জনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ৫৩ জন আদালতে হাজির হন। এ সময় তারা কেনো ঋণখেলাপি হয়েছেন তার কারণ জানতে চায় হাইকোর্ট।

এ সময় কয়েকজন আদালতকে জানান, তাদের নামে ঋণ নেয়া হয়েছে এটা তারা জানেন না।

যদিও বিচারপতি তাদের যুক্তিকে আমলে নেননি। এ সময় আদালত ঋণখেলাপিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বছর আপনার নামে টাকা ঋণ করা হয়েছে আর আপনি জানেন না।

এ বিষয়ের শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে চোর বলেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের তলবের পরও যেসব ঋণখেলাপি আদালতে আসেনি তাদের আরেকবার সুযোগ দিয়ে প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও সর্তক করা হয়।

পিপলস লিজিংয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান বলেন, অনেকে বলছে সে জানে না তার নামে ঋণ নেয়া হয়েছে। আবার অনেকে আছে এইটার সুবিধাভোগী। এখানে অবশ্যই দুর্নীতি হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট এতে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, অনিয়ম বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না বলে উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম আজিজ বলেন, পিপলস লিজিংয়ের কর্মকান্ড যেভাবে চলছে এতে মহামান্য আদালতের অবজারভেশন হচ্ছে কিভাবে বিষয়টাকে আরও সুন্দর করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদকের চেয়ারম্যান ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য হাইকোর্ট শুনবে।
বাকি ঋণখেলাপিদের ২৫শে ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।