শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

চবি শিক্ষকের এ কেমন শিক্ষা!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ৫, ২০২১, ৩:০৩ অপরাহ্ণ


হোসাইন সাজ্জাদ : শিক্ষক হলেই যে তার ব্যক্তিগত স্বাদ-আহ্লাদ থাকবে না, তিনি নাচ-গান করতে পারবেন না এমন দিব্যি নেই। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম তার শ্যালিকার বিয়েতে নেচে-গেয়ে মাতিয়েছেন, তা দোষ কিংবা অপরাধের কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন তৈরি হয়, গানের তালে তালে স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে জম্পেশ নাচের ভিডিওটি যখন তিনি কিছুদিন পরপর ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে নৃত্যের পারঙ্গমতা জানান দেওয়ার পাশাপাশি সস্তা লাইক-কমেন্ট আশা করেন তখনই।

এমন আত্মপ্রচারের বিষয়টিকে অত্যন্ত খেলু, হাস্যকর উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী একুশে পত্রিকাকে বলেন, পারিবারিক আয়োজনে স্বজনদের সাথে তিনি নাচানাচি করতেই পারেন, সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়-আশয়। কিন্তু নিজের নাচের ভিডিও কিছুদিন পর পর ফেসবুকে পোস্ট বা শেয়ার দিয়ে তিনি বালখিল্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। এই আচরণ ব্যক্তিত্ববান ও রুচিশীল শিক্ষক মানসিকতার পরিপন্থী এবং দৃষ্টিকটু।

তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হবেন সবসময় অনুকরণীয় এবং পাঠ্য। তার প্রতিটি পদক্ষেপ, ফেসবুক পোস্ট, কথাবার্তা, আচার-আচরণ হবে শিক্ষনীয়। কিন্তু রেজাউল করিম নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে প্রকারান্তরে বিকৃত রুচিবোধের পরিচয় দিচ্ছেন এবং শিক্ষক পরিচয় ছাপিয়ে চটুল পরিচয়ে নিজেকে মেলে ধরছেন। যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজকে বিব্রত করছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসের শুরুতে রাজধানীতে শ্যালিকার বিয়েতে স্ত্রীর সাথে গানের তালে তালে নানা অঙ্গভঙ্গি করে পেশাদার নৃত্যশিল্পীর মতোই নেচেছেন চবি শিক্ষক রেজাউল করিম। নাচটি দেখে যে কেউ তার নৃত্যগুণের প্রশংসা করবেন তাতে সন্দেহ নেই। বিয়ে ও গায়ে হলুদ—দুটি অনুষ্ঠানেই চমৎকার নেচেছেন রেজাউল করিম ও তার চিকিৎসক স্ত্রী; যা উপভোগ করছেন সেদিন উপস্থিত সবাই।

এরপর ২০১৮ সালের ৪ মার্চ নাচের সেই দুটি ভিডিও রেজাউল করিম তার ফেসবুকে আপলোড দেন। তার নৃত্যশৈলির প্রশংসার পাশাপাশি ব্যঙ্গবিদ্রুপাত্মক মন্তব্যও করেন ভিডিও’র নিচে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভিডিও দুটিকে অবলম্বন করে এখনও সস্তা খ্যাতি লাভের আশায় মত্ত রেজাউল করিম। নিয়মিতভাবে স্বজন-শুভার্থিদের কাছে ভিডিও’র লিংক পাঠাচ্ছেন তিনি। প্রতিবছর ৪ মার্চ এলে মেমোরিতে ভেসে ওঠা ভিডিও দুটি সগৌরবে তা শেয়ার দিচ্ছেন। একইভাবে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) তিনবছর পূর্তিতে ভিডিও দুটি শেয়ার দিয়ে ফের আলোচনায় আসেন তিনি।

এব্যাপারে চবি শিক্ষক রেজাউল করিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আসলে আমি কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলাম। গত চার দিন আগে আমার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। সেই থেকে আমি আমার ফেইসবুক ব্যবহার করছি না। আর এই ভিডিওটি তো আমি শেয়ার করিনি। আমার স্ত্রী আমার ফেইসবুক চালায়। তাই হয়তো তিনি ভিডিওটি শেয়ার করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, এই ভিডিওটি ২০১৮ সালে আপলোড দেওয়ার পরই তো ভাইরাল হয়ে গেছে। এটা এখন শেয়ার দেওয়া না দেওয়া একই কথা। তবে এই ভিডিওটি আমি এখনই ডিলিট করে দিচ্ছি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হেলাল উদ্দিন নিজামীর কাছে একজন শিক্ষকের এমন হালকা, খেলু আচরণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, চবি শিক্ষক রেজাউল করিম চবির অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের প্রভোস্ট, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সহ সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য।