সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

দেশে করোনা শনাক্তের এক বছর, আক্রান্ত সাড়ে পাঁচ লাখ

| প্রকাশিতঃ ৮ মার্চ ২০২১ | ৯:২৬ পূর্বাহ্ন


ঢাকা : দেশে মহামারি করোনার এক বছর আজ সোমবার (৮ মার্চ) পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ৪৬২ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লাখ ৩ হাজার তিন জন।

এর আগে গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। একই দিন করোনাভাইরাসকে মহামারী বলে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। উদ্বেগে পড়ে দেশ।

মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এই নতুন রোগের ধরন জানা না থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঠিক কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিপাকে পড়ে।

ধীরে ধীরে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তিন মাস পর গত বছর ১৮ জুন সংক্রমণ এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর ঠিক এক মাস পর ১৮ জুলাই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখে।

এর পরের এক লাখ রোগী শনাক্ত হয় ১ মাস ৯ দিনে, ২৬ আগস্ট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়ায় তিন লাখ। এমনকি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে যায় এর দুই মাস পর ২৬ অক্টোবর। ৫৫ দিন পর গত ২০ ডিসেম্বর তা পাঁচ লাখে পৌঁছায়। এর পরের ৭৭ দিনে শনাক্ত রোগীর তালিকায় যুক্ত হয় আরও ৫০ হাজার নাম।

এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।
বিশেষ করে করোনায় মৃত্যুর খবরে মানুষ আরও বেশি ভয় পেয়ে যায়।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছর ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশও নানা উদ্যোগ নিতে থাকে। স্কুল-কলেজ বন্ধ, সাধারণ ছুটি ঘোষণা, এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার যান চলাচল নিষিদ্ধ, এমনকি লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সরকার।

প্রতিদিনই আরোপ হতে থাকে নানা বিধিনিষেধ। ঘরে ঘরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মারা যেতে থাকে মানুষ। ভয় আতঙ্কে পেয়ে বসে মানুষকে। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশ ভুতুড়ে পরিবেশে রূপ নেয়।

কয়েক মাস পরে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে বাংলাদেশ। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত হয়। সরকার নানাভাবে মানুষকে দরিদ্র মানুষকে আর্থিক সহায়তা শুরু করে। চিকিৎসা চলতে থাকে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি পালনে কঠোর অবস্থানে যায় সরকার। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয় না পেয়ে মানুষকে করোনাযুদ্ধে জয়ী হওয়ার ডাক দেন।

রোগ-শোকে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ সাহস নিয়ে দাঁড়াতে শেখে করোনার মুখোমুখি। নানা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একসময় করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এক বছর পর এখন বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি একপ্রকার নিয়ন্ত্রণে বলা চলে। কয়েক মাস ধরেই সংক্রমণ হার পাঁচ শতাংশের নিচে।

করোনার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে’ বলছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রথম দিকেই রয়েছে। আমেরিকার ব্লুমবার্গ তো বলেই দিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা এক নম্বরে আছি। বিশ্বব্যাপী আমরা ২০-এর মধ্যে আছি। এখন অনেক দিন থেকেই সংক্রমণ সংখ্যা পাঁচ শতাংশের নিচে। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এ সংখ্যাকে এই পর্যায়ে ধরে রাখা এবং ভ্যাকসিনটা ঠিকমতো করা। ভ্যাকসিনেশন একমাত্র পথ নয়, অন্যতম পথ। সুতরাং ভ্যাকসিনেশন, স্বাস্থ্যবিধি মানা, যদি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে কাজ করি তাহলে এটা সম্ভব যে সংক্রমণ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাবে।

অবশ্য বাংলাদেশ এখনো করোনাযুদ্ধের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, করোনা এখনো শেষ হয়নি। মহামারীর নিম্নপর্যায়ে আছি। কিন্তু সারাবিশ্বে মহামারী চলছে। আবার বেড়ে যেতে পারে। টিকাদান মাত্র শুরু হয়েছে। কাজেই করোনাযুদ্ধ তো চলছে, যুদ্ধের বিরতিও হয়নি। আমাদের দেশ কখনই করোনামুক্ত ছিল না। পরপর চার সপ্তাহ যদি সংক্রমণ হার শূন্যের কোঠায় থাকে, তাহলে সেটা সাময়িকভাবে বলা যায় করোনামুক্ত। সেটাও হয়নি। আমরা করোনাযুদ্ধের মধ্যেই আছি, যুদ্ধ তো চলছে।