
ঢাকা: ভার্চুয়ালি হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেলেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবীদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিষয়ে আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি হাজির হয়েছিলেন তিনি।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার এ আবেদন করা হয়।
আদালত ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আশরাফুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাদের পরবর্তী তারিখে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার রুলের ওপর ২২ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা চাকরিতে বহাল আছেন এবং সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কিছু হয়ে থাকে তবে সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। তাদের আইনজীবীরা বলেন, ওই কর্মীরা বাসা থেকেই অফিস করছেন। যেমনটি সারা দুনিয়ায় হচ্ছে।
আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আশরাফুল হাসানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. উজ্জ্বল হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আশরাফুল হাসানকে তলব করেন হাইকোর্ট।
১৬ মার্চ বেলা ১১টায় তাদের আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির হতে বলা হয়। একইসঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেন আদালত।
এরআগে, গ্রামীণ টেলিকমের ৩৮জন কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আশরাফুল হাসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান এ আবেদন করেন।