সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এফোড়-ওফোড় শরীর, মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ কলেজ ছাত্রের

| প্রকাশিতঃ ২১ মার্চ ২০২১ | ১:৪৭ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ রফিক : অভাবের সংসার বাবার। তাই ৬ মাস আগে নগরের একটি জুতার দোকানে খণ্ডকালীন কাজ নেন কলেজছাত্র সাফায়েত হোসেন সিফাত। চাকরির বেতনে নিজের লেখাপড়ার খরচটা সামলে নিতেন অদম্য সিফাত। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে ভাল একটা চাকরি করবেন। বাবার অভাবের সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু এক রাতেই তার সে স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ।

দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে দুই ছিনতাইকারী তার শখের মোবাইলটি ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়ায় ছিনতাইকারীরা ধারালো ছুরি দিয়ে তার শরীর এফোড়-ওফোড় করে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের লালখানবাজার এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে দুইজন পথচারী চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সিফাত এখন চমেক হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) বিছানায় কাতরাচ্ছেন। যুদ্ধ করছেন মৃত্যুর সঙ্গে। ইতোমধ্যে তাকে ৬ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো জ্ঞান ফিরেনি।

শনিবার রাত ৮টার দিকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে গেলে দেখা যায়, মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সিফাত। থেমে থেমে গোঙানির শব্দ আর কখনোবা কেঁপে উঠছে হাত-পা। শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে পরম মমতায় ছোট ভাইয়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছেন বড় বোন হাফছা আক্তার। দুচোখে তার জল।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে হাফসা আক্তার একুশ পত্রিকাকে জানান, সিফাতের জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাকে এ যাবত ছয় ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। রোববার বসে সিফাতের বিষয়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন৷

আইসিইউতে দায়িত্ব পালনরত এক চিকিৎসক জানান, আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম বাকি বিল্লাহ’র তত্ত্বাবধানে  সিফাতের চিকিৎসা চলছে।

হাফসা জানান, তার বাবা মীর হোসেন ছোটখাট ব্যবসা করেন। মা আছেন। তারা দুই ভাই, দুই বোন। টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনী ১৬ নং বিল্ডিং এ বাসা। পাহাড়তলি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সিফাত। ৫/৬ মাস আগে তিনি লালখানবাজার ‘বাটার’ দোকানে খণ্ডকালীন কাজ নিয়েছিলেন।

সেদিন (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান থেকে পায়ে হেঁটে টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনিতে ফিরছিলেন তিনি৷ লালখানবাজার মোড় থেকে দক্ষিণে পেট্রোল পাম্প-এর মাঝামাঝি জায়গায় দুই ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে৷ মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। শখের মোবাইল ফোনটি রক্ষা করতে গিয়ে ছুরিকআঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় সিফাতের শরীর। পরে ওই দুই পথচারী তাকে উদ্ধার করব চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এদিকে, ছেলের জ্ঞান না ফেরায় বাবা-মার অবস্থাও ভালো নয়। সিফাতের এমন অবস্থায় পরিবারের কারো গলা দিয়ে খাবার যাচ্ছে না। আদরের ছেলে, ভাইটার জন্য সবাই শুধু কাঁদছেন। মা আশায় আছেন কখন ছেলেটি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবে।

খুলশি থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, সিফাতকে ছুরিকাঘাতকারী দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।