বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

বিচারকের ভূমি দখলকারী তিন ভূমিদস্যুর গ্রেফতারে নাখোশ কক্সবাজার পুলিশ!

| প্রকাশিতঃ ২৭ এপ্রিল ২০২১ | ৫:০০ অপরাহ্ন

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল তেতৈয়া রফিকের ঘোনায় বিচারক পরিবার ও বনভূমির জায়গা দখলকারি তিন ভূমিদস্যুকে ঢাকা থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ নাখোশ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিচারকের পরিবার ও বনবিভাগের ভূমি দখল করে সেখানে দখলদারিত্ব বজায় রাখতে উল্টো বিচারক পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা-নাজেহাল ও প্রতিনিয়ত তাদের চরিত্রহনন চেষ্টা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যুচক্র।

গত ২০ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় অনেক দেনদরবার করে এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে সক্ষম হলেও আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছিলেন না। অবশেষে ৭ দিন পর ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকার ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মামলার অন্যতম আসামি স্থানীয় আ. লীগ নেতা মো. কামাল উদ্দিন (৪০), তার ভাই শেখ কামাল মেম্বার (৩৮) ও আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪১) মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

কিন্তু গ্রেফতারের ঘটনায় কক্সবাজার পুলিশ নাখোশ হয়েছেন এবং তারা ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের গ্রহণে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের বরাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এডভোকেট বোরহান উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের নিতে একরকম অস্বীকৃতি জানাচ্ছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

ভিকটিম আইনজীবী বোরহান উদ্দীনের অভিযোগ, ডিবি জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

তিনি জানান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ডিবিকে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে ঠিক। কিন্তু গ্রেফতার করার কথা ছিল না।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় তিন আসামি গ্রেফতারের বিষয়টা আমরা এখনো জানি না। আর আমরা এব্যাপারে কাউকে অ্যাসাইনমেন্ট দিইনি।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের কক্সবাজারে ফিরিয়ে আনতে জেলা পুলিশের অস্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, অস্বীকৃতির বিষয়টি ঠিক নয়। কোনো আসামি গ্রেফতার হলে কিছু আইনিপ্রক্রিয়া আছে। আসামি হস্তান্তর বা গ্রেফতার হলে সেসব প্রক্রিয়া সারতে হয়। এসপি বলেন, আমাদের কাছে খবর এসেছে তারা গ্রেফতার হয়েছে। আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়টা অবগত করে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল কক্সবাজার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন তেতৈয়া রফিকের ঘোনার মৃত হাজি আবুল হোছাইনের ছেলে রফিক আহমদ।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন-মৃত ফজল করিমের ছেলে আবু ছৈয়দ প্রকাশ মুন্সি আবু ছৈয়দ (৪৫), জাফর আলমের ছেলে মো. ইলিয়াছ (৩৫), মৃত বেক্কুর ছেলে মো. কাসেম (৩৪), নুরুল ইসলামের ছেলে মনিউল আলম (৩৮), মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে শাহিন আলম (৪০), আবদু সালামের ছেলে মিজানুর রহমান (২৯), আবদুল মজিদের ছেলে সেলিম উল্লাহ (৩১) ও জাফর আলমের ছেলে হামিদ হোসেন (৪৩)।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তৈতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দীনের পরিবারের দুই একরেরও বেশি কৃষিজমি ও কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীনে বরাদ্দকৃত সামাজিক বানায়ন দখল করে ‘মুজিবনগর’ নাম দেওয়া হয়। ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের আশ্রয়ন’ ব্যানার টাঙিয়ে শতাধিক ঝুপড়ি নির্মাণ করে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের নেতৃত্বে একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্র।

দখলদারিত্ব বজায় রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে লেখা হয়-‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দখলকৃত জমির মালিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ব্রিটিশ ভারতের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ফৌজ আর্মির সদস্য মৃত আবুল হোসেন। তিনি খুরুশকুলের তেতৈয়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিন, হাইকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানীসহ পাঁচজন ব্যক্তি এসব কৃষিজমির মালিক। রয়েছে বন বিভাগের সৃজিত সামাজিক বনায়নভুক্ত জমিও।