রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সম্মেলনের আগেই সভাপতি, সম্পাদক চূড়ান্ত!

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুন ১২, ২০২১, ৮:৩০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম :  চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চললেও কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অনেকটা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে আভাস মিলেছে। সেক্ষেত্রে আগামী ১৯ জুনের সম্মেলন লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে টান টান উত্তেজনা, নানা সমীকরণ।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমর্থিত প্রার্থী থেকেই নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্ধারিত হচ্ছে। তাদের পছন্দের প্রার্থীরাই যে নেতৃত্বে আসছেন সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা এই দুই নেতাকে ইতোমধ্যে গ্রিন সিগন্যালও দিয়ে দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, সভাপতি পদে ওমরগণি এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দেবাশীষ নাথ দেবু একপ্রকার চূড়ান্ত। তিনি মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমর্থিত। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় আছে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিনের নাম। তিনি আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক শীর্ষ নেতার কাছে হেলালের জন্য সুপারিশ করতে তাকে নিয়ে আ জ ম নাছির এরমধ্যে ঢাকা গেছেন-এমন তথ্যও চাউর হয়েছে চারদিকে।

জানা যায়, ১০১ সদস্যের কমিটিতে জায়গা পেতে কেন্দ্রে ৪৩১ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়লেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য লড়ছেন অন্তত অর্ধডজন সাবেক ছাত্রনেতা। যাদের মধ্যে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল, সিটি কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাদেক হোসেন পাপ্পু, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দেবাশীষ নাথ দেবু ও ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ উল্লেখযোগ্য।

প্রত্যাশিত পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ কম করছেন না তারা। নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এদের মধ্যে অনেকেই সম্মেলনের দিনতারিখ ঘোষণার পর থেকে তদবির-আর্জি করছেন বিভিন্ন মন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে। তবে নেতৃত্ব ঠিক হয়ে গেছে, এমন খবরে নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন কেউ কেউ। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হতে না পারলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে তাদেরÑ এমন আভাসও পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে।

সূত্র মতে, আ জ ম নাছির উদ্দীন বলয় থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. হেলাল উদ্দিন একপ্রকার চূড়ান্ত হলেও সভাপতি পদের জন্য নওফেল বলয়ের দেবাশীষ নাথ দেবুই আছেন আলোচনার শীর্ষে। সভাপতি পদে গত কদিন ধরে হঠাৎ দেবাশীষ নাথ দেবু আলোচনার পাদপ্রদীপে চলে আসেন তিনি।

দেবাশীষ নাথ দেবু একুশে পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমি আশা করছি মন্ত্রী মহোদয় (মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) আমাকেই চূড়ান্তভাবে বেছে নিবেন। উনি আমাকে এ বিষয়ে আশা দিয়েছেন। আর যেহেতু চট্টগ্রামের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সক্রিয় ছিলাম তাই আমি মনে করি, কেন্দ্র আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’

এদিকে, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি, নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় সরগরম চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠ। রাজনীতি-সচেতনরা বলছেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর গঠন হতে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের মূল নেতৃত্বে আসা উচিত ত্যাগী ডায়নামিক, স্মার্ট, মেধাবী টিম। সভাপতি পদে যার নাম আলোচিত হচ্ছে তার তেমন দুর্নাম না থাকলেও সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা ও বলিষ্ঠতা খুব বেশি প্রশংসিত নয়। এছাড়া সংগঠন পরিচালনায়ও তেমন অভিজ্ঞতা নেই তার। কৌতূহলীদের মতে, সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন সে তুলনায় অপেক্ষাকৃত সাংগঠনিক ব্যক্তি এবং বিচক্ষণ। তবে হেলাল সাধারণ সম্পাদক হলে আ জ ম নাছির উদ্দীনের চেয়ে প্রকারান্তরে তার বড়ভাই নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুরই লাভ বেশি। প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সৃষ্টি মহিউদ্দিন বাচ্চু বর্তমানে মহিউদ্দিন-পুত্র নওফেলেরই শক্ত হ্যান্ডস। আর হেলাল আ জ ম নাছিরের সৃষ্টি হলেও পারিবারিকভাবে দুই ভ্রাতা এক ও অভিন্ন। সে হিসেবে প্রচ্ছন্নভাবে নগর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ দুটির নেতৃত্বই প্রকারান্তরে নওফেল অনুসারী মহিউদ্দিন বাচ্চুর ঘরে যেতে পারে বলে কারো কারো বিশ্লে­ষকদের অভিমত।

তবে এক্ষেত্রে ভিন্নমত মো. হেলাল উদ্দিনের। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন বাচ্চু আমার বড়ভাই ঠিক আছে। আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ক ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ। আপনারা জানেন, একই আদর্শের রাজনীতি করলেও আমরা দুইভাই দুই মেরুর বাসিন্দা। রাজনীতির নানা ঘাত-প্রতিঘাত, টানাপোড়েনে আমরা দুজনই স্বতন্ত্র জায়গা থেকে রাজনীতি করেছি। আমি আমার নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি না হলে আমি কখনো আজকের হেলাল হতে পারতাম না। অন্যদিকে বাচ্চু ভাই মহিউদ্দিন ভাইয়ের আস্থাভাজন। কাজেই আমার হাতে নেতৃত্ব এলে প্রিয় নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের দেখানো পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতই শক্তিশালী হবে। এবং এজন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত। আর এটাই আমাদেরকে জননেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের শিক্ষা।

তবে আগাম সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড এবং ১৫ থানা থেকে তিনজন করে কাউন্সিলর নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে গঠন করা হবে সাবজেক্ট কমিটি। আর সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত সাবজেক্ট কমিটিই নির্বাচন করবে নতুন নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে আগে থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করার কোনো সুযোগই নেই।’

এদিকে সম্মেলনের আগেই নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি গুজব উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাদের এখনও দ্বিতীয় অধিবেশন বসেনি, নাম প্রস্তাব সমর্থন হয়নি। এসব না হতেই সম্মেলনের আগে কীভাবে নেতৃত্ব নির্ধারণ হবে বলুন?

আ জ ম নাছির উদ্দীন ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমর্থিত প্রার্থী থেকেই নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হচ্ছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?Ñ উত্তরে তিনি জানান, এরকম কিছুই হচ্ছে না। আমার মনে হয় এধরনের গুজব থেকে সকলের দূরে থাকাই ভালো।

এ বিষয়ে জানার জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।