বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

অস্ত্র মামলায় খালাস, মাদক মামলায় বদির চার ভাইসহ ১০১ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশিতঃ ২৩ নভেম্বর ২০২২ | ৪:০১ অপরাহ্ন


জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে দায়ের মাদক ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলা থেকে সবাইকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত।

তবে, ইয়াবা মামলায় প্রত্যেককে এক বছর ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। মামলার এজাহার ও সাক্ষ্যে গরমিল থাকায় আত্মসমর্পণের দিন উপস্থাপন করা বন্দুকের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন মামলার বাদি। রায় ঘোষণাকালে আদালতে উপস্থিত মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে এসব রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

আত্মসর্মণের পর প্রত্যেক আসামি এক বছর নয় মাস করে কারাগারে ছিলেন। সে হিসেবে তাদের মাদক মামলায় সাজা আর ভোগ করতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিচার সংশ্লিষ্টরা।

দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ২১ মাস বিনাশ্রমের সাথে সমন্বয় করা হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে, আইনী প্রক্রিয়ায় মামলা নিষ্পত্তির স্বার্থে সকল আসামিকে কারাগারে যেতে হবে। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে আদালতের রায়ের কপি, জরিমানা সব কিছু উপস্থাপনের পর তারা মুক্তি পাবেন।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার (তত্বাবধায়ক) মো. শাহ আলম খান বলেন, যেহেতু তারা আগে কারাভোগ করেছেন সেহেতু সে সময়গুলো সাজার সাথে গণনা হতেই পারে। তবে, এসব বিষয় আদালত রায়ে যেভাবে লিখবেন সেভাবেই গণ্য হবে। তাই রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত সবিস্তারে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে আসামিদের আদালতে আনা হয়। পৌনে একটা হতে রায় পাঠ শুরু করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। রায়ের সবিশেষ উপস্থাপনের পর বেলা পৌনে ২টার দিকে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। এসময় আগে কারাগারে থাকা ১৭ আসামি উপস্থিত থাকলেও বাকি ৮৪ জন ছিলেন অনুপস্থিত। রায়ে সাজা হবে বুঝতে পেরে তারা আগে থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। গত ১৪ নভেম্বর সাক্ষীর জেরা ও ১৫ নভেম্বর সাফাই সাক্ষ্য শেষে ২৩ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য্য করেছিলেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মোস্তফা, আবুল কালাম আজাদ ও আবু সিদ্দিক ওসমানী।

এদিকে, রায়ের তারিখ ঘোষণা হবার পর হতে গা-ঢাকা দেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাইসহ আত্মস্বীকৃত ৮৪ ইয়াবা কারবাবি। এরমধ্যে অনেকেই বিদেশে চলে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। গেল ১৫ নভেম্বর সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তি-তর্কের পর ২৩ নভেম্বর (বুধবার) মাদক ও অস্ত্রের দুটি মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করে আদালত। একইদিন আদালতে অনুপস্থিত ৮৪ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালতের আদেশের পর আত্মগোপনে চলে যাওয়াদের মাঝে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির চারভাইসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন ও পৌরসভার কাউন্সিলরও রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। তবে, এজাহার ও চার্জশিটের দুর্বলতা কারণে সাজার পরিমাণ কম হয়েছে বলে ধারণা। আগে সাজা ভোগের বিষয়টি কি হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে, আইনি বিধানে এটি গণ্য হবার কথা।

আসামি পক্ষের আইনজীবী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, দুটি মামলাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও সমাজে একটি বাজে বার্তা প্রচার হবার ভয়ে আত্মসমর্পণকৃত আসামিদের প্রতীকি সাজা দিয়েছেন আদালত।

অভিযোগ আছে, কারাগারে বসে ও জামিনে এসে অনেকে ফের ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে গেছে।

রায়ের পর মামলার প্রধান আসামি সাবেক সাংসদ বদির ভাই আত্মগোপনে থাকা আবদুর শুক্কুর তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ- আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি যারা জামিন বাতিলের পর পালিয়ে আছে তাদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ। আত্মগোপনে গেলেও শেষ রক্ষা হবে না তাদের।