
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানবাধিকারের বুলি পশ্চিমাদের মুখে শোভা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান। এ সময় তিনি পশ্চিমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি।
শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অন্ধকার অতীত রয়েছে। এ কারণে তাদের মুখে মানবাধিকারের বুলি শোভা পায় না।’ তার মতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা বিভিন্ন দেশে লুটপাট ও গণহত্যা চালানোর মতো অন্ধকার অতীতের অধিকারী। এসব দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না।’
মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের পদক্ষেপের সমালোচনা করে হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, জার্মান সরকার ইরাকের শাসক সাদ্দামকে রাসায়নিক অস্ত্র দিয়েছিল। তারা ছিলো ওই অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী। এছাড়া অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো অন্যায্য ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। পশ্চিমারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে মূলত মানবাধিকার ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।’
তিনি বলেন, ইরানে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং এ দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড করার যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা ‘বিস্তারিত দলিল-প্রমাণের’ ভিত্তিতেই তিনি এ ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন।
ইরানে বিদেশি মদদে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক সহিংসতা ও গোলযোগ সম্পর্কে পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সুস্পষ্ট কোনা ধারনা নেই। এ কারণে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে বক্তব্য রাখছে। তিনি এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে জাতিসংঘের তদন্ত আহ্বানের বিষয়ে দেশটির প্রতিনিধি খাদিজাহ কারিমি বলেছেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর নৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি আছে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান গভীরভাবে অনুতপ্ত যে মানবাধিকার কাউন্সিলকে আবারও কিছু অহংকারী রাষ্ট্র দ্বারা অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে একটি সার্বভৌম জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি বিরোধিতা করা হয়। অথচ ইরান মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মানবাধিকারকে ব্যবহারের বিষয়টি লজ্জার।’
এছড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও মানবাধিকারকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।