সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

মিতু হত্যা: অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে

| প্রকাশিতঃ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ৮:২৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ চার্জ গঠনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালত এই আদেশ দেন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ বলেন, বাবুল আক্তারকে আজ যথাসময়ে আদালতে হাজির করা হয়নি। তিনি পথে রয়েছেন। আদালত আগামী ১৩ মার্চ চার্জগঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওইদিন আমরা বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানাবো।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি মামলাটি তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর হয়। ওইদিন আলোচিত এই মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি মিতু হত্যায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. জেবুন্নেছা বেগমের আদালত বিচার শুরুর নির্দেশনা দিয়ে তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে নথি পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১১ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে বাবুল আক্তার, মো. মোতালেব মিয়া প্রকাশ ওয়াসিম, শাহজাহান মিয়া ও আনোয়ার হোসেন কারাগারে। এহতেশামুল জামিনে রয়েছে। মো. কামরুল ইসলাম শিকদার প্রকাশ মুসা ও মো. খাইরুল ইসলাম প্রকাশ কালু নামে দুই আসামি পলাতক। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ ৭ জনকে আসামি করে আদালতে ২ হাজার ৮৪ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই অভিযোগপত্র গত ১০ অক্টোবর গ্রহণ করেন আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তৎকালীন পুলিশ সুপার ও মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

তবে মামলাটিতে স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে স্বামী বাবুল আক্তারেরই সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ১২ মে আগের মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। একই দিন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। ওইদিনই মামলাটিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন বাবুল।