
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের লোকসভার সদস্যপদ হারালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার (২৪ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে লোকসভার সচিবালয় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ ফেরাতে সবকিছু করার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার গুজরাটের সুরাট শহরের একটি আদালত রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদবি নিয়ে কটু মন্তব্যবিষয়ক এক মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ওই মামলায় কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে এবং তার গ্রেপ্তার ৩০ দিন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট সুরাট আদালতের রায় বাতিল করে দিলে রাহুল গান্ধী লোকসভার সদস্যপদ ফিরে পাবেন।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এক জনসভায় রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, আমি জানি না কেন সব চোরের নাম মোদি হয়? নীরব মোদি, ললিত মোদি বা নরেন্দ্র মোদির নাম খেয়াল করলেই বিষয়টি আপনারা আঁচ করতে পারবেন।
রাহুলের উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে নীরব মোদি একজন পলাতক ব্যবসায়ী। পাঞ্জারেব জাতীয় ব্যাংক থেকে অন্যায্যভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আর ললিত মোদি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সাবেক প্রধান। বিশেষ অভিযোগে তাকে ভারতের ক্রিকেট পরিচালনা পরিষদ থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর ওই মন্তব্যের পর বিজেপির আইনপ্রণেতা পূর্ণেশ মোদি একটি মানহানি মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সুরাটের আদালত ওই মামলার রায়ে রাহুলকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
এদিকে রাহুল গান্ধীর লোকসভার সদস্যপদ বাতিলের কড়া সমালোচনা করে শুক্রবার এক বিবৃতি দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির যোগাযোগবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রামেশ এক বিবৃতিতে বলেন, রাহুলের সদস্যপদ বাতিল ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা যেকোনো মূল্যে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাব। আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
স্ক্রলডটইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ বাতিল অন্যায্য এবং এর মধ্য দিয়ে ভারতের ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ হয়েছে মন্তব্য করে শুক্রবার পার্লামেন্টে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী এমপিরা।
কংগ্রেসের এমপিরা রাহুলের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে আলাপ করতে চেয়েছেন। তারা শিগগির তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীর কারাদণ্ড ঘোষণার পর থেকে বিরোধী দলের নেতারা সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করছেন। আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের মতের ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু গান্ধীকে মানহানি মামলায় দণ্ড দেওয়াটার প্রতিবাদ জানায় আপ। বিজেপি মূলত সব বিরোধী পার্টিকে ধ্বংস করতে চায়। এটা সেই চক্রান্তের অংশ।
ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, সব দেখেশুনে বুঝতে কষ্ট হয় আমরা কোথায় আছি। আমরা কি স্বাধীন-স্বাভাবিক দেশে আছি, না জরুরি অবস্থার মধ্যে আছি? দেশ আজ অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, রাহুল গান্ধী নয়, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেশ, জনগণ, সামাজিক সংহতি এবং সংবিধান অবমাননার অভিযোগে মানহানি মামলা হওয়া উচিত।