
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দর হামলার পরিকল্পনাকারী নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে দেশটির কাবুল বিমানবন্দরে উগ্রবাদী সংগঠন আইএস যে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছিল, তার মূল পরিকল্পনাকারীকে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সেনারা হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় যখন অসংখ্য মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন (২০২১ সালের অগাস্ট মাসে) কাবুল বিমানবন্দরে ওই বোমা হামলায় ১৭০ জন বেসামরিক মানুষ আর ১৩জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিবিএসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামিক স্টেটের ওই নেতাকে কয়েক সপ্তাহ আগেই হত্যা করা হয়।
কিন্তু সে তথ্য নিশ্চিত করতে সময় লেগেছে। হত্যার শিকার ওই আইএস নেতার নাম অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির মাধ্যমে তারা নিশ্চিত যে আইএসের ওই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।
কিন্তু কীভাবে তারা জানতে পেরেছে বা কে সেই হামলাকারী- এসব বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাতে মার্কিন কর্মকর্তারা রাজি হননি।
সিবিএসকে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি নিশ্চিত যে এই ব্যক্তি…ওই হামলার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।”
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসের ওই নেতার হত্যার বিষয়টি প্রথমত মার্কিন কর্মকর্তারা জানতে পারেন এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে।
তাকে তালেবান খুঁজছিল নাকি তালেবানের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে ওই নেতা নিহত হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়।
বিমানবন্দরে বোমা হামলায় দায়ী আইএস নেতার হত্যার বিষয়ে সোমবার থেকে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারকে অবহিত করতে শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।
ওই হামলায় নিহত মেরিন স্টাফ সার্জেন্ট টেইলর হুভারের পিতা ডারিন হুভার সিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন যে, মেরিন কর্পস থেকে তাকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘কর্মকর্তারা তাকে অভিযানের বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কিন্তু তারা বলেছে যে তাদের সোর্স খুবই বিশ্বাসযোগ্য এবং তারা অনেকগুলো সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছে যে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি নিহত হয়েছে।’
২০২১ সালের ২৬ অগাস্ট কাবুলের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমানবন্দরের অ্যাবি গেটে অপেক্ষমাণ মানুষজনের মধ্যে হেঁটে গিয়ে উগ্রবাদী সংগঠন আইএস-এর একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
এর কয়েক দিন পরে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কাবুলে একটি ড্রোন হামলা চালায়।
কিন্তু পরবর্তীতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে হামলায় ১০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু ছিল।
পরবর্তীতে বিমানবন্দরে বোমা হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে তথ্য দিলে বা কোনো দেশ তাদের আটক করতে পারলে অথবা আইএস নেতা সানাউল্লাহ গাফারিকে আটক করতে পারলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সহায়তা করে গেলেও, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গেই আফগান সরকার এবং সেনাবাহিনীর পতন ঘটে।
আর সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।