মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

পাকিস্তানে বিক্ষোভ দমনে সেনা তলব, নিহত বেড়ে ৮

| প্রকাশিতঃ ১১ মে ২০২৩ | ১২:৫৮ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী তলব করেছে সরকার।

দেশটির মন্ত্রিসভা বুধবার রাজধানী ইসলামাবাদসহ পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সব মামলায় জামিন পেলেও নাটকীয়ভাবে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নেওযা হয়। এর পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এ পর্যন্ত আটজন নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি লোক। খবর বিবিসির।

দুর্নীতির অভিযোগে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের হাইকোর্ট চত্বর থেকে গ্রেপ্তারের পর অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়। পরে বুধবার তাকে পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ রুদ্ধদ্বার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে শুনানি চলার সময় তাকে তার কৌঁসুলিদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়। তবে রুদ্ধদ্বার আদালত কক্ষে অনুষ্ঠিত এই শুনানির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

ইমরান খানের আইনজীবী আলী বুখারি জানান, আদালত ইমরান খানের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

যদিও সরকারি কৌঁসুলিরা তার ১৪ দিনের রিমান্ড দাবি করেছিলেন।

ইমরানের অপর আইনজীবী আফজাল মারওয়াত জানান, ইমরান খান ভালো আছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময়ে আধা সামরিক বাহিনী তার মাথায় ও পায়ে আঘাত দিয়েছে।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ দফায় বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা লাহোরে এক সেনা অধিনায়কের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভকারীরা সেনা সদর দপ্তরের প্রবেশ মুখ অবরোধ করেছে।

মঙ্গলবার রাত থেকেই পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ড খণ্ড লড়াই শুরু হয়।

পুলিশ বলছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাঙ্গাকারীদের ধরার চেষ্টা করছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘সহিংস বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবে তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’

পাকিস্তানের অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংযম প্রদর্শন এবং আইনের শাসন বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস সবাইকে সংযত থেকে সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘পাকিস্তানে যেসব চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলা এবং দেশটি কোন পথে যাবে তা একমাত্র দেশটির জনগণই নির্ধারণ করতে পারে। সেটা করতে হবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এবং আইনের শাসন বজায় রেখে।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে গত কয়েক মাস ধরে চলা একটানা রাজনৈতিক সংকট এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গত বছরের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ইমরান চার বছরেরও কম সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে তিনি যখন পাকিস্তানের ওয়াজিরাবাদ শহরে প্রচারণা করছিলেন, তখন তার পায়ে গুলি করা হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য একজন ঊর্ধ্বতন সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে দায়ী করেছিলেন।

এদিকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আদালতে আনা দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। সম্ভবত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে দাঁড়ানোর জন্য আজীবনের জন্য অযোগ্য হয়ে যাবেন। চলতি বছরের শেষের দিকে পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।